বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই

সব শিক্ষার্থী পাবে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:১৫ এএম

নতুন বছরের প্রথম দিনে নতুন বই হাতে পেল শিশুরা। তবে মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা বই পাবে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে। এদিকে গণশিক্ষা উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার দাবি করেছেন বছরের প্রথম দিনেই প্রাথমিকের সব বই শিক্ষার্থীরা হাতে পেয়েছে।

অন্যদিকে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, বছরের প্রথম দিন প্রাথমিকের সব বই শিক্ষার্থীর দেওয়া হলেও মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিকের বই ১৫ জানুয়ারির মধ্যে দেওয়া হবে। গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আবুল বাশার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘এ বছর প্রাথমিকের পাঠ্যবইয়ের মান আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে, যা অন্তর্র্বর্তী সরকারের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।’ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামানের সভাপতিত্বে বই বিতরণ কার্যক্রমে বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আব্দুল লতিফ।

বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন, ‘চলতি শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক মিলিয়ে প্রায় ৩০ কোটি বই বিনামূল্যে মুদ্রণ করেছে সরকার। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরের বই ছাপা ও বিতরণের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে।’ অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, ‘শিক্ষক-শিক্ষিকা যারা আছেন, আপনাদের জন্য নির্দেশিকা বই করেছি। শিক্ষার্থীদের পড়াতে আপনাদের করণীয় কী, সেসব বিষয়ে সব ভাষায় ছবির মাধ্যমে আমরা বিষয়গুলা বর্ণনা করেছি।’ তিনি বলেন, ‘শিশু খেলায় শিখবে এবং তারা আনন্দের সঙ্গে পড়াশোনা করবে। শিশুরা কবিতা আবৃত্তি করবে, তারা বিতর্ক করবে, গান গাইবে, সবকিছু নিয়ে তাদের যেন বিকাশ হয়; সেটা আমরা দেখব।’

বই বিতরণের এই অনুষ্ঠান শেষে বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনে নালন্দা উচ্চ বিদ্যালয়ে বই বিতরণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। তিনি সেখানে বলেন, ‘কিছুদিন আগে এখানে একটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছে, যা জাতির জন্য কলঙ্কজনক। এসব ঘটনা গণতন্ত্রের বিকাশের জন্য হুমকিস্বরূপ। আশার কথা হলো, এ দেশের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ এসব ঘটনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন।’ উপদেষ্টা বলেন, ‘সুকুমারবৃত্তির চর্চা ও শিক্ষার অনুশীলন আপাতদৃষ্টিতে কোমল মনে হলেও, এগুলো মানুষকে এমনভাবে গড়ে তোলে, যাতে তারা সব ধরনের অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়।’

এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ৮ কোটি ৫৯ লাখ কপি নতুন বই ছাপা ও বিতরণের কাজ গত ১৬ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে। এ ছাড়া মাধ্যমিক ও ইবতেদায়ি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ২১ কোটি ৪৩ লাখ বইয়ের মধ্যে গত বুধবার রাত পর্যন্ত উপজেলায় পর্যায়ে ১৫ কোটি ৬১ লাখ বই পৌঁছেছে। বাকি পাঁচ কোটি ৮১ লাখ বই পেতে মধ্য জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

রাষ্ট্রীয় শোকের কারণেই উৎসব হয়নি : সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে এবার বই উৎসব হয়নি জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেছেন, বছরের শুরুতেই সরকারি স্কুলে বই পৌঁছে দিয়েছে সরকার। প্রাথমিকের সবগুলো বই দেওয়া হলেও মাধ্যমিক ও নি¤œœ মাধ্যমিকের সব বই এখনো যায়নি। আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে সেসব বই শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে গতকাল রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান তিনি।

ব্রিফিংয়ে উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, ‘পাঠ্যপুস্তক যাতে সময়মতো ছাত্রছাত্রীদের হাতে তুলে দেওয়া যায় সে জন্য সরকার এবার অনেক আগে থেকেই কাজ শুরু করেছিল এবং এ বিষয়ে অনেকাংশে সরকার সফল হয়েছে। বছরের প্রথম দিনে শিক্ষাবর্ষের চাহিদাকৃত প্রাথমিক এবং প্রাথমিক স্তরের ৩০ কোটি ২ লাখ ৫ হাজার ১০৪টি পাঠ্যপুস্তকের মধ্যে ২৪ কোটি ৫৯ লাখ বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে গেছে, যা মোট পাঠ্যপুস্তকের ৮৩ শতাংশ। এর মধ্যে প্রাথমিক এবং প্রাথমিক পর্যায়ে এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের জন্য প্রস্তুতকৃত বইগুলো শতভাগ, ইবতেদায়ি মাদ্রাসার ৯৫ শতাংশ, নবম এবং দশম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের জন্য ৮৬ শতাংশ, ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের জন্য ৮২ শতাংশ এবং ব্রেইল পদ্ধতির ৭৭ শতাংশ বই নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি জানান, সপ্তম শ্রেণির ৬৩ শতাংশ এবং অষ্টম শ্রেণির ৫২ শতাংশ বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে বছরের প্রথম দিনে। এই বছর যথেষ্ট সময় নিয়ে কাজ শুরু করার পরও ষষ্ঠ এবং সপ্তম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক প্রস্তুতিতে কিছুটা সময় লেগেছে। প্রথম দিনে এই সময় লাগার কারণে এই দুই শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক হয়তো শিক্ষার্থীদের কাছে এখনো সবগুলো পুরোপুরি পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে ডিসেম্বরের ২৮ তারিখেই সবগুলো পাঠ্যপুস্তকের পিডিএফ কপি ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে। বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে যে কেউ এই পুস্তক প্রিন্ট আউট নিয়ে পড়তে সক্ষম হবেন।

প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রয়াণে দেশে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক চলছে। আজ (গতকাল) শোকের দ্বিতীয় দিন হওয়ায় আমরা বড় কোনো উৎসব করছি না। তবে উৎসব না হলেও প্রথম দিনে ৮৩ শতাংশ শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছে দেওয়া এক বিশাল অর্জন।’ তিনি আরও যোগ করেন, গত পাঁচ বছরে কখনোই মার্চের আগে সম্পূর্ণ বই বিতরণ করা সম্ভব হয়নি, কিন্তু এবার ১৫ জানুয়ারির মধ্যেই সেই লক্ষ্যমাত্রা ছোঁবে সরকার।

পাঠ্যপুস্তককে নির্ভুল করতে এবার নজিরবিহীন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়। এ প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, ১২৩টি পাঠ্যপুস্তকের ভুল শনাক্ত করে ৩০০ জনেরও বেশি অভিজ্ঞ শিক্ষকের মতামতের ভিত্তিতে তা সংশোধন করা হয়েছে। ২১ দিনব্যাপী কর্মশালার মাধ্যমে ছাপার অস্পষ্টতা, বানান ও ভাষাগত ত্রুটিগুলো দূর করা হয়েছে। এমনকি প্রথমবারের মতো ইংরেজি সংস্করণের বইগুলোও বুয়েটের বিশেষজ্ঞদলের সহায়তায় পরিমার্জন করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত