নানা আয়োজনে ডুয়েটে চলছে মিলন উৎসব 

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম

মধুর স্মৃতি রোমন্থন, হাসি, আড্ডা আর বর্নাঢ্য নানা আয়োজনে  ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) অনুষ্ঠিত হচ্ছে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের মিলনমেলা।

গাজীপুরে অবস্থিত প্রিয় ক্যাম্পাসে দূর দরান্ত থেকে সাবেক শিক্ষার্থীরা ছুটে এসেছেন প্রাণের টানে। কেউবা আগেরদিন শুক্রবার ক্যাম্পাসে এসে আবাসিক হলে রাত কাটিয়েছেন নিজের সেই পুরনো বিছানায়। কেউবা আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভোরে কুয়াশা ভেদ করে পৌঁছেছেন। উদ্দেশ্য সবাই মিলে হৈ হুল্লোড় করে দিনটা পার করবেন।

আজ সকালে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, পায়রা ও বেলুন উড়ানোর মধ্য দিয়ে  অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন।

অনুষ্টানে উপস্থিত আছেন তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. রুমা, বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাকির হোসেন, অধ্যাপক ড.  মো. রাজু আহমেদ, ছাত্র কল্যাণ পরিচালক উৎপল কুমার দাস, ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন, বাংলাদেশ ঢাকা কেন্দ্রের সাধারন সম্পাদক কে এম আসাদুজ্জামান চুন্নু সহ বিভাগের বিভিন্ন ব্যাচের অ্যালামনাইবৃন্দ, বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক, দেশের তড়িৎ কৌশল সেক্টরের শীর্ষ প্রকৌশলী, শিল্পপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তা-কর্মচারী।

সবার উপস্থিতিতে স্মৃতিময় ও উৎসবমুখর মিলনমেলায় পুরো ক্যাম্পাসে সৃষ্টি হয় এক প্রাণবন্ত ও সৌহার্দ্যমূলক পরিবেশ। তারা তাদের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা, গবেষণা যাত্রা, দেশ-বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ এবং শিল্পপ্রযুক্তির বাস্তব চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে বর্তমান শিক্ষার্থীদের মূল্যবান দিকনির্দেশনা দেন।

অ্যালামনাইদের সঙ্গে বর্তমান শিক্ষার্থীদের মুক্ত আলোচনা ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠনে বিশেষ অনুপ্রেরণা জোগায় এবং এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে জ্ঞানের সেতুবন্ধন তৈরি করে।

আড্ডার ফাঁকে কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী প্রকৌশলী শারমিন আক্তারের সঙ্গে।
তিনি বলেন, এক যুগ পর ক্যাম্পাসে এসে কী যে ভালো লাগছে ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে পেরে মনে হচ্ছে দীর্ঘদিন পর নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি। অসম্ভব, তবু বলি আবার যদি সেই ক্যাম্পাস জীবনে ফিরতে পারতাম বড়ই ভালো হতো।

সাবেক শিক্ষার্থীদের অনেকের সঙ্গে এসেছে তাদের সন্তানেরাও। এই শিশুদের জন্য রয়েছে কিডস জোন, যেখানে তারও তাদের বাবা-মায়ের ক্যাম্পাসে হৈ হুল্লোড় করছে। তাদের জন্য রাখা হয়েছে ভ্রাম্যমান যাদুঘর।

এই অনুষ্ঠানটি শুক্রবার হওয়ার কথা থাকলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে তা একদিন পেছানো হয়।

অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করে আয়োজন করা হয় বিশেষ মোনাজাত।

দিনব্যাপি এই অনুষ্ঠানে অন্যান্য পর্বের মধ্যে আরও রয়েছে বৃক্ষরোপণ, স্পোর্টস, আন্তঃব্যাচ যোগাযোগ সেশন, গ্রুপ ফটো সেশন, স্টল পরিদর্শন, পুরস্কার বিতরণী, র‌্যাফেল ড্র এবং সমাপনী অনুষ্ঠান।

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত