ইরানে চলমান বিক্ষোভে সহিংসতার কারণে আরও দুইজনের মৃত্যু ঘটেছে, যার ফলে মোট নিহতের সংখ্যা অন্তত ১০-এ পৌঁছেছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিক্ষোভ থামার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শুক্রবার ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, যদি শান্তিপ্রিয় বিক্ষোভকারীদের উপর সহিংসতা চালানো হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের রক্ষায় পদক্ষেপ নেবে। যদিও কিভাবে হস্তক্ষেপ করা হবে তা স্পষ্ট নয়, এই মন্তব্যের পর ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করার হুমকি দিয়েছেন।
গত এক সপ্তাহ ধরে চলা এই বিক্ষোভ ২০২২ সালের পর ইরানে সবচেয়ে বড় আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। ২০২২ সালে ২২ বছর বয়সী মাহসা আমিনির পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর পর দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। বর্তমান আন্দোলন এখনও ততটা বিস্তৃত বা তীব্র নয়। মাহসা আমিনিকে হিজাব না পরার অভিযোগে আটক করা হয়েছিল।
আজ শনিবার ভোররাত পর্যন্ত সংঘটিত সহিংসতার মধ্যে কুম শহরে একটি গ্রেনেড বিস্ফোরণে এক ব্যক্তি নিহত হয়। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, নিহত ব্যক্তি শহরে হামলার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড বহন করছিলেন। এছাড়া কেরমানশাহ প্রদেশের হারসিনে আধাসামরিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সদস্য গুলি ও ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে অন্তত ২২টি প্রদেশে বিক্ষোভ ছড়িয়েছে।
সংস্কারপন্থী প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের নেতৃত্বাধীন সরকার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংলাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তবে তিনি স্বীকার করেছেন, অর্থনৈতিক সংকটের কারণে তার ক্ষমতা সীমিত। দেশটির মুদ্রা রিয়ালের মান দ্রুত কমছে, বর্তমানে এক মার্কিন ডলার কিনতে প্রায় ১৪ লাখ রিয়াল প্রয়োজন।
অর্থনৈতিক সংকটই মূলত এই আন্দোলনের পেছনের কারণ। তবে বিক্ষোভকারীরা ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধেও স্লোগান দিচ্ছেন।
ইরান সম্প্রতি জানিয়েছে, তারা আর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে না, পশ্চিমাদের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ দেখাতে এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পথ খোলার উদ্দেশ্যে। তবে কোনও আলোচনার সূচনা এখনও হয়নি। এদিকে, ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরু না করার বিষয়ে সতর্কবার্তা দিচ্ছেন।
