বছরের শুরুতেই সিনেমাপাড়ায় শোকের ছায়া। না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন প্রখ্যাত চিত্রগ্রাহক ও চলচ্চিত্র পরিচালক আব্দুল লতিফ বাচ্চু। গতকাল রবিবার দুপুর ১২টা নাগাদ শেষ নিঃশ^াস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন আব্দুল লতিফ বাচ্চু। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত বছরের জুলাইয়ে দেশের বাইরেও নেওয়া হয় তাকে। এরপর দেশে আনা হলে তার চিকিৎসা ঠিকঠাক চলছিল। গতকাল সন্ধ্যায় তার শরীরে একটি অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন। চিত্রগ্রাহকের সহকারী হিসেবে ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখলেও প্রতিভা ও কঠোর অধ্যবসায় দিয়ে খ্যাতির শীর্ষে জায়গা করে নেন এই পরিচালক।
১৯৪২ সালের ৯ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন আব্দুল লতিফ বাচ্চু। তার চলচ্চিত্রজীবনের শুরু প্রখ্যাত চিত্রগ্রাহক সাধন রায়ের সহকারী হিসেবে। সে সময় তিনি ‘আলোর পিপাসা’, ‘আগন্তুক’ ও ‘দর্পচূর্ণ’র মতো সিনেমায় কাজ করেন। ১৯৬৮ সালে ‘রূপকুমারী’ সিনেমা দিয়ে চিত্রগ্রাহক হিসেবে একক যাত্রা শুরু করেন। স্বাধীনতার পর ‘অবুঝ মন’ সিনেমায় চিত্রা জহির ও কাজী জহিরের সঙ্গে কাজ করে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেন। পরিচালক হিসেবে তার নির্মিত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘বলবান’, ‘যাদুর বাঁশি’ (বাচসাস পুরস্কারপ্রাপ্ত), ‘দ্বীপকন্যা’, ‘নতুন বউ’, ‘মি. মাওলা’ ও ‘প্রতারক’। এর মধ্যে ‘নতুন বউ’ সিনেমাটি তাকে পরিচালক হিসেবে বিশেষ খ্যাতি এনে দিয়েছিল।
চলচ্চিত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বাচসাস’ পুরস্কারের পাশাপাশি ‘ফজলুল হক স্মৃতি’ পুরস্কারেও ভূষিত হন তিনি। চলচ্চিত্র ও নাট্যজগতে দীর্ঘদিনের সৃজনশীল ও বিচক্ষণ অবদানের জন্য আব্দুল লতিফ বাচ্চু ছিলেন অত্যন্ত সম্মানিত একটি নাম। শুধু নির্মাণেই নয়, চলচ্চিত্র অঙ্গনের নীতিনির্ধারণী ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
