অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চায় বিএনপি

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪০ এএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ চায় বিএনপি। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপির নির্বাচনী অফিসে কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রথম বৈঠকে বিষয়টি জানানো হয়। বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ বহু বছর ভোট দিতে এবং পছন্দের প্রার্থী নির্বাচিত করতে পারেনি। আশা করছি, এবার জনগণ ভোট দিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীদের নির্বাচিত করতে পারবে। এর মাধ্যমে যে সরকার ক্ষমতায় আসবে, তারা জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করবে। কাজেই এ নির্বাচনটা যাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়, জনগণ তাদের মতপ্রকাশ করতে পারে সেই লক্ষ্যেই আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটি কাজ করছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্য অর্জনে গণমাধ্যমের সর্বাত্মক সহযোগিতা চেয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, তারেক রহমান ১৭ বছর পর দেশে ফিরে বিশাল গণসংবর্ধনায় যে বক্তব্য রেখেছেন, তা আপনারা শুনেছেন। বারবার তিনি শান্তির কথা, সমঝোতার কথা বলেছেন। কাজেই আমরা একটা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আশা করছি। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে যে ভূমিকা পালন করা দরকার, বিএনপি তাই করবে। নির্বাচন পরিচালনা কমিটি সেই লক্ষ্যকে ধারণ করে কাজ করবে। বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামে গণমাধ্যম যেভাবে সহযোগিতা করেছে, নির্বাচনের সময়টায়ও সেটা অব্যাহত রাখবে বলে আমরা আশা করি। তিনি বলেন, অনেক দিন আপনারা ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বলতে পারেননি। সবকিছু প্রকাশ করতে পারেননি। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। এখন আপনারা সেটা করতে পারছেন। আশা করব, আপনারা অভিজ্ঞতা দিয়ে জনগণের আকাক্সক্ষা পূরণে সহযোগিতা করবেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত ২ জানুয়ারি নজরুল ইসলাম খানকে চেয়ারম্যান এবং রুহুল কবির রিজভীকে সদস্য সচিব করে ৪১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা উন্মুক্ত থাকতে চাই। আমাদের কথা বা কাজে কিছু গোপন রাখতে চাই না। আমরা মনে করি, জনগণ জেনে-বুঝেই যদি ভালো মনে করে তাহলে আমাদের পছন্দ ও সমর্থন করবে। সেভাবে যদি আমরা বিজয়ী হই, তাহলে জনগণের সহযোগিতা নিয়ে আমরা দায়িত্ব পালন করতে পারব। আমাদের এই সৎ সাহস আছে, কোনো কৌশল করার প্রয়োজন হবে না। আমাদের নেতাকর্মীরা কখনো এমন কৌশল নেয়নি, যেখানে মর্যাদা, পরিচয় গোপন রাখতে হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যদি অন্যায়ভাবে বাতিলের বিষয়টি বলতেন তাহলে আমরা জবাব দিতে পারতাম। যদি ন্যায্য কারণে বাতিল হয়, তাহলে কাউকে দোষারোপ করতে পারেন না। দেশের প্রচলিত আইনে বাতিল হতেই পারে। আমাদের বিএনপিরও অনেকের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এখন আপত্তি জানানোর সুযোগ আছে, তারা নিশ্চয়ই আপত্তি জানাবেন এতে হয়তো সিদ্ধান্ত পরিবর্তনও হতে পারে। তিনি আরও বলেন, একটা সময় বহু রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেনি। তখনো বলা হয়েছে, নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হয়েছে। আমি সেটা বলতে চাই না। তবে কিছু রাজনৈতিক দল তো আছে, যাদের প্রতি জনগণের ক্ষোভ আছে। দেশের প্রচলিত আইনে কিছু রাজনৈতিক দলের তৎপরতা বন্ধ আছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আছে। কাজেই তাদের তো নির্বাচনে অংশগ্রহণের আইনগত সুযোগ নেই। সেরকম হলে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হওয়ার পথে বাধা বা বাতিল বলে মনে করা যায় না। এর বাইরে যেসব দল নির্বাচন করতে চায় না, সেটা ভিন্ন কথা। কারোরই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় বাধা নেই। এখন এটা তাদের সিদ্ধান্তের প্রশ্ন। যদি বাধা হতো আমরা বলতে পারতাম, কিছু দলকে বাইরে রেখে নির্বাচন করার চেষ্টা চলছে।

বাড়ি বাড়ি গিয়ে একটি বিশেষ দল ভোটারদের আইডি কার্ড সংগ্রহ করছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ঘরে ঘরে দলের প্রার্থীর জন্য ভোট প্রার্থনা করাটা দোষের ব্যাপার নয়। কিন্তু আপনি যেটা বললেন, তাদের ভোটার আইডি বা জাতীয় পরিচয়পত্রগুলো সংগ্রহ করা হচ্ছে; সেখানে দুশ্চিন্তার কারণ থাকতে পারে। এটা কেন করতে হবে? উদ্দেশ্যটা কী? এ নিয়ে পত্রিকায় কোনো নিউজ হয়েছে বলে দেখিনি। আমার মনে হয় নিউজ করা উচিত। সরকারেরও উচিত এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। কারণ, এ ডকুমেন্টগুলো অত্যন্ত সেনসিটিভ, ব্যক্তিগত ডকুমেন্ট। কোনো মন্দ উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ইসমাইল জবিউল্লাহ ও স্পোকস ম্যান মাদানী আমিন উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত