ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিয়েও কোনও প্রার্থী মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বৈধতা পেলে, বিরোধিতা বা অভিযোগ দিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের বিরুদ্ধে আপিল আবেদনের সময়ে এই আহ্বান জানিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আপিল আবেদন দাখিলের বুথ পরিদর্শনে এসে তিনি এ কথা বলেন। ইসি সচিব জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বাছাইয়ে এক হাজার ৮৪২টি মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। আর বাতিল হয়েছে ৭২৩টি।
তিনি জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে তার জমা দেওয়া তিনটি মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের আওতায় আনা হয়নি।
ইসি সচিব বলেন, মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট বা সংক্ষুব্ধ যে কোনও প্রার্থী আপিল করতে পারবেন। হলফনামা যাচাই করেই রিটার্নিং কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তবুও কোনও প্রার্থী বা ব্যক্তির অভিযোগ থাকলে আবেদন করা যাবে। যেকোনও ব্যক্তি যেকোনও বিষয়ে অভিযোগ দাখিল করতে পারবেন, শুনানি শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ জানান, হলফনামা জমা দেওয়ার সময় কেউ বাধাগ্রস্ত হলে, সে অভিযোগও করা যাবে। ইসি তা শুনানিতে নেবে। তিনি বলেন, বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন মানুষ সংক্ষুব্ধ হতে পারেন, সব অভিযোগই আমলে নেওয়া হবে। কোনও প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলেও সে অভিযোগ আসতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।
ইসি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ নির্বাচনে মোট তিন হাজার ৪০৬টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে জমা পড়েছিল দুই হাজার ৫৬৮টি। বাছাই শেষে এক হাজার ৮৪২টি বৈধ ও ৭২৩টি বাতিল হয়েছে। ঢাকা অঞ্চলে সর্বোচ্চ ১৩৩টি এবং বরিশাল অঞ্চলে সর্বনিম্ন ৩১টি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় ছিল গত ২৯ ডিসেম্বর। ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তারা মনোনয়নপত্র বাছাই করেছেন। ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল আবেদন গ্রহণ করা হবে। ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি। ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ও প্রতীক বরাদ্দ হবে। ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে নির্বাচনী প্রচারণা, যা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।
