অখ্যাত লিয়াম রোজেনিয়রকে ছয় বছরের জন্য কোচ করলো চেলসি

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম

ইংলিশ ফুটবলের আলোচনায় নতুন নাম লিয়াম রোজেনিয়র। খুব বেশি পরিচিত না হলেও ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নিতে যাচ্ছেন ৪১ বছর বয়সী এই কোচ। প্রিমিয়ার লিগের জায়ান্ট ক্লাব চেলসির নতুন ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন তিনি—ছয় বছরের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে, যা চলবে ২০৩২ সাল পর্যন্ত।

ফরাসি লিগ ওয়ানের ক্লাব স্ট্রাসবুর্গে দায়িত্ব পালনকালে সংবাদ সম্মেলনে রোজেনিয়র নিজেই জানান, চেলসির সঙ্গে তাঁর মৌখিক সমঝোতা হয়েছে। পরে চেলসি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নিয়োগ নিশ্চিত করে। ক্লাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, রোজেনিয়র খেলোয়াড় গড়া, স্পষ্ট খেলার দর্শন এবং মাঠের ভেতর–বাইরে উচ্চ মানদণ্ড বজায় রাখতে সক্ষম—যা চেলসির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

মাত্র তিন বছরের কোচিং অভিজ্ঞতা নিয়ে, এবং কখনো প্রিমিয়ার লিগে দল পরিচালনা না করেই রোজেনিয়র যাচ্ছেন ইংলিশ ফুটবলের সবচেয়ে কঠিন দায়িত্বগুলোর একটিতে। তবু এই সুযোগকে তিনি জীবনের স্বপ্নের বাস্তবায়ন হিসেবে দেখছেন। রোজেনিয়রের ভাষায়, “এটা এমন একটি সুযোগ, যা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।”

এনজো মারেস্কাকে বরখাস্ত করার পর থেকেই রোজেনিয়র ছিলেন চেলসির শীর্ষ পছন্দ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—স্ট্রাসবুর্গ ও চেলসি, দুই ক্লাবই একই মালিকানাধীন গ্রুপ ব্লুকোর আওতায়। ২০২২ সালে ব্লুকো চেলসির দায়িত্ব নেওয়ার পর রোজেনিয়র হচ্ছেন ক্লাবটির পঞ্চম স্থায়ী কোচ।

স্ট্রাসবুর্গের সঙ্গে তাঁর বিদায়ও সহজ ছিল না। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ক্লাবটির প্রতি তাঁর গভীর টান রয়েছে বলেই নিজে উপস্থিত হয়ে সংবাদটি জানাতে চেয়েছেন। “আমি এই ক্লাবকে ভালোবাসি। তবে সামনে যা অপেক্ষা করছে, সেটাও আমার জীবনের বড় অধ্যায়,” বলেন তিনি।

খেলোয়াড় হিসেবে রোজেনিয়রের ক্যারিয়ার কেটেছে প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নশিপ মিলিয়ে। ফুলহ্যাম, রিডিং, হাল সিটি ও ব্রাইটনের হয়ে খেলেছেন তিনি। পরে কোচিংয়ে এসে ডার্বি কাউন্টিতে ওয়েন রুনির সহকারী হিসেবে কাজ করেন। ২০২২ সালে হাল সিটির প্রধান কোচ হন, এরপর ২০২৪ সালে যোগ দেন স্ট্রাসবুর্গে। তাঁর অধীনে গত মৌসুমে লিগ ওয়ানে সপ্তম হয় দলটি।

চেলসিতে যোগ দেওয়ার ফলে রোজেনিয়রের সামনে চাপ ও প্রত্যাশা—দুটিই বাড়ছে। বর্তমানে লিগে পঞ্চম স্থানে থাকা চেলসির পয়েন্ট ব্যবধান শীর্ষে থাকা আর্সেনালের সঙ্গে ১৭। ধারাবাহিকতার অভাব কাটিয়ে দলটিকে শীর্ষ সাফল্যে ফেরানোই তাঁর প্রধান চ্যালেঞ্জ।

এই নিয়োগ প্রিমিয়ার লিগে একজন কৃষ্ণাঙ্গ ব্রিটিশ কোচের জন্য বিরল শীর্ষ সুযোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। পরিবারে ফেরার বিষয়টিও রোজেনিয়রের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, “আমি আমার সন্তানদের কাছে ফিরতে চাই। তাদের থেকে দূরে থাকার ত্যাগটা যেন সার্থক হয়—সেই সাফল্যের লক্ষ্যেই আমি এগোচ্ছি।”

চেলসির হয়ে রোজেনিয়রের প্রথম ম্যাচ হতে পারে বুধবার, ওয়েস্ট লন্ডনের প্রতিদ্বন্দ্বী ফুলহ্যামের বিপক্ষে—যে ক্লাবের হয়ে একসময় খেলেছেন তিনি নিজেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত