পারিবারিক গল্পের প্রাধান্য ওয়েব সিরিজেও

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৪৯ এএম

টিভি নাটকের পর ওয়েব সিরিজেও দেখা যাচ্ছে পারিবারিক গল্পের আবহ। গত বছরেই দেশের সব বড় বড় ওটিটি প্ল্যাটফর্মে অবমুক্ত করা হয়েছে বেশ কয়েকটি পারিবারিক গল্পের ওয়েব সিরিজ। সেগুলোর প্রায় সবগুলোই দর্শকের প্রশংসার সঙ্গে প্রচারিত হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে বছরের শেষের দিকে পারিবারিক বন্ধন, ভালোবাসা ও দ্বন্দ্বের গল্পে শুরু হয়েছে সিরিজ ‘এটা আমাদেরই গল্প’। এটি পরিচালনা করেছেন পরিচালক মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ। সিরিজটি সপ্তাহের বুধ ও বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় দুটি করে পর্ব প্রচার করছে সিনেমাওয়ালা ইউটিউব চ্যানেলে। গত ১০ অক্টোবর ওটিটি প্লাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পায় ২০ পর্বের সিরিজ ‘চক্র’। ১৬ বছর আগের ময়মনসিংহের আদম পরিবার নামে পরিচিত একটি পরিবারের ৯ সদস্য আত্মহত্যা করেন। সেই ঘটনা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে চিত্রনাট্য লিখেছিলেন নির্মাতা ভিকি জাহেদ। এর আগে বঙ্গতে অবমুক্ত করা হয় শহরকেন্দ্রিক পারিবারিক গল্পের ওয়েব সিরিজ ‘ননসেন্স’। ছয় পর্বের সিরিজটি নির্মাণ করেছেন রাকেশ বসু।

চলতি বছরেও মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে বেশ কয়েকটি ওয়েব সিরিজ। যেগুলোর বেশিরভাগই ফ্যামিলি ড্রামা নির্ভর। সেই ধারাবাহিকতা আগামী ১৪ জানুয়ারি থেকে ‘আতকা’ শিরোনামের তারকাবহুল একটি পারিবারিক সিরিজ প্রচার করতে যাচ্ছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকি। দেশের জনপ্রিয় নবীন-প্রবীণদের নিয়ে সিরিজটির মাধ্যমে নতুন বছর শুরু করতে যাচ্ছে প্ল্যাটফর্মটি। পারিবারিক গল্পের মোড়কে নানান টুইস্টে সাজানো হয়েছে সিরিজটি। ইনফ্লুয়েন্সার ও লেখক রাবা খানের গল্প, চিত্রনাট্য ও সংলাপে সিরিজটি নির্মাণ করেছেন আরাফাত মহসীন নিধি। গল্পকার ও নির্মাতা হিসেবে এটি তাদের প্রথম সিরিজ। এতে প্রধান কয়েকটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন আবুল হায়াত, রোজী সিদ্দিকী, সাবেরী আলম, মৌসুমি নাগ, আরশ খান, সুনেরাহ বিনতে কামাল, সোহেল মণ্ডল ও ফারিহা রহমান।

সিরিজের সব অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীদের নিয়ে এক জমজমাট আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়। আবুল হায়াতের মতে, সেটি ছিল ফ্যামিলি আড্ডা। কিন্তু প্রশ্ন হলো এরা সবাই ফ্যামিলি বা পরিবার কীভাবে? আসলে ‘আঁতকা’ নামের একটি সিরিজে সবাইকে দেখা যাবে এক পরিবারের অংশ হিসেবে। সে কারণেই শিল্পীদের কাছে সেটি হয়ে উঠেছিল ফ্যামিলি আড্ডা।

‘আঁতকা’ আসলে কী? রাবা ও নিধি বলেন, ‘আঁতকা’ একটা শব্দ, যার অর্থ আচমকা। এটা খুবই লোকাল একটা শব্দ, আমরা প্রায়ই ব্যবহার করি। নামটা চূড়ান্ত করার গল্প বলতে গিয়ে রাবা বলেন, সিরিজের নাম কী হবে, সেটা নিয়ে একদিন আমি আর নিধি ফোনে কথা বলছিলাম। ওই আলোচনার মধ্যেই কয়েকবার ‘আঁতকা’ শব্দটা ব্যবহার করে নিধি। তখন আমাদের মনে হয় এটা নাম হতে পারে। আমরাও শব্দটা প্রায়ই ব্যবহার করি। নানা আলোচনা ও যুক্তির পর আমরা নামটা ঠিক করি।”

মজার ঘটনা বলতে গিয়ে সাবেরী আলম বলেন, ‘একটা সিনে তুষার ভাই (তুষার খান) মনে করেছেন আমি তার স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করছি। কিন্তু আমি অভিনয় করছিলাম তার বড় ভাইয়ের স্ত্রীর চরিত্রে। সিনটা ছিল ইমোশনাল, কিন্তু ভুল করার কারণে খুব মজা হয়েছিল।’ সাবেরী আলমের সঙ্গে যোগ করেন আবুল হায়াত, বলেন, ‘নাটকে তো আসলে তুষার স্ত্রী পায় না। এখানে (আঁতকা) স্ত্রী পেয়ে কনফিউজড হয়ে গেছে।’ রোজী সিদ্দিকী বলেন, ‘অনেকদিন পর আমরা কিছু পুরনো মানুষ একসঙ্গে হতে পেরেছি। এত হাসাহাসি করেছি যে নির্মাতা বলতে বাধ্য হয়েছে যে, আপনারা প্লিজ হাসি থামান, আমাকে সিনটা করতে দেন। ছোটদের সঙ্গেই মজা করেছি। ওরা (ছোটরা) বুঝতে পেরেছে, বড়রা কী পরিমাণ ফানি হতে পারে।’

নবীন-প্রবীণদের কার চ্যালেঞ্জ কেমন ছিল? রাবার এমন প্রশ্নে আবুল হায়াত বলে ওঠেন, ‘অভিনয় করাটাই চ্যালেঞ্জিং। যে কোনো চরিত্রে অভিনয় করাটাই কঠিন। আর নতুনদের সঙ্গে কাজ করাটা আরও কঠিন, কারণ ওরা আমাদের চেয়ে অনেক ভালো অভিনয় করে।’ আরশ খানের উত্তর, ‘‘আমার জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল দাদার সঙ্গে (আবুল হায়াত) প্রথম দৃশ্যটা। সবসময় তাকে টিভিতে দেখেছি, আবুল হায়াত আমার কাছে ‘দ্য আবুল হায়াত’। সিনটা করব কীভাবে এটা ভেবে আগের রাতে জ্বর চলে এসেছিল।” এ কথা শুনে আবুল হায়াতের মন্তব্য, ‘আগে বলবা না, আমার কাছে প্যারাসিটামল তো ছিলই।’

‘আঁতকা’র শুটিং করতে গিয়ে অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামালের ব্যাপারে অভিনেতা আরশ খানের নতুন একটা উপলব্ধি হয়েছে। সেটা জানিয়ে আরশ খান বলেন, ‘সুনেরাহ’র সঙ্গে তো আমার প্রায়ই কাজ হয়। শান্ত, ভালোবাসার মানুষ এমন চরিত্রেই সাধারণত কাজ হয় আমাদের। কিন্তু এই শুটিংয়ে গিয়ে বুঝলাম সে খুব পোংটা বা এ রকম চরিত্রে অভিনয় করতে পারে, সেটা খুব মজা লেগেছে।’

নির্মাতা আরাফাত মহসীন নিধি বলেন, ‘আমার ইচ্ছা ছিল মাল্টি কাস্টিং নিয়ে কাজ করার। আমি আমার ছোটবেলায় যাদের দেখেছি, তাদের কেন সিনেমা বা ওটিটিতে পাচ্ছি না, সেটা আমার একটা চিন্তা ছিল। তাই যখন ফ্যামিলি গল্প নিয়ে কাজ শুরু করলাম, আমরা চেয়েছিলাম এ রকম একটা কাস্ট নিয়ে কাজ করার। যাদের চেয়েছি, তাদের পেয়েছি বলতে পারেন এবং মজার বিষয় হলো তাদের সঙ্গে আমার আগের কোনো যোগাযোগ ছিল না। আমি লাকি যে সবাই আমার কাজে রাজি হয়েছেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত