ধর্মঘটের কোন প্রভাব নেই

হিলিতে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি গ্যাস, তবে দাম বাড়তি

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম

সারাদেশব্যপী গ্যাস সরবরাহ ও বিপণন বন্ধের ঘোষণা দিলেও দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে এর কোন প্রভাব পড়েনি। যথারীতি হিলির সব গ্যাসের দোকানগুলোতেই চলছে সবধরনের এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি। তবে সরকার নির্ধারিত দামে কোন দোকানেই মিলছেনা এলপিজি গ্যাস। এদিকে গ্যাসের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন ছোট চা দোকানীসহ সব ধরনের গ্রাহকগন।

সরেজমিনে হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, যমুনা ও বিএম গ্যাস বিক্রি হচ্ছে ১৪শ টাকা দরে আর ওমেরা ও বসুন্ধরা গ্যাস বিক্রি হচ্ছে ১৪শ ৫০টাকা দরে। যদিও ভোক্তাপর্যায়ে ১২ কেজি ওজনের এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের ১ হাজার ৩০৬ টাকা।

গ্যাস কিনতে আসা চা বিক্রেতা ইয়াসিন আলী বলেন, আমি ফুটপাতে চায়ের দোকান দিয়ে চা বিক্রি করে যা আয় তাই দিয়ে কোন রকম করে সংসার চালাই। কিন্তু হঠাৎ করে গ্যাসের দাম বাড়ার কারনে আমাদের খুব সমস্যা হচ্ছে। কিছুদিন আগেও কিনেছি ১১শ ৮০ টাকা এর পরে বেড়ে ১২শ টাকা হলো এর পরে আবারো বেড়ে সাড়ে ১২শ টাকা কিনতে হয়েছে। কিন্তু গত দুই থেকে তিন দিন ধরে গ্যাসের দাম আবারো ঊর্ধ্বমুখী। একদিন আগে গ্যাসের দাম ১৩শ টাকা ছিল সেটি আবার বেড়ে ১৪শ টাকা ছাড়িয়েছে। কয়েকদিনের ব্যবধানে সিলিন্ডার প্রতি ২শ টাকা বেড়ে গিয়েছে আবার শুনছি পাওয়া যাবেনা। এক সিলিন্ডার দিয়ে একসপ্তাহ যায় এখন যদি প্রতি সিলিন্ডারে ২শ টাকা বাড়তি লাগে তাহলে তো মাসে আমাদের ১ হাজার টাকা বেশী লাগছে।  

গ্যাস কিনতে আসা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এখন প্রত্যেকটি পরিবারেই এলপিজি গ্যাস ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু হঠাৎ করে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়ার কারনে আমাদের ভোক্তাদের চরম সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আবার চাহিদামত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছেনা অনেকে থেকেও দিচ্ছেনা সব মিলিয়ে চরম সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। যে গ্যাসে ১২শ ৫০টাকা ছিল সেই গ্যাস এখন বেড়ে ১৪শ টাকা আবার কোন কোন দোকানে ১৪শ ৫০ টাকা নিচ্ছে কোম্পানি ভেদে। 

হিলি চেকপোষ্ট সড়কের গ্যাস বিক্রেতা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমরা বিএম এলপিজি গ্যাস কিনছি ১৩শ ৬০ টাকা দরে আর বিক্রি করছি ১৪শ টাকা দরে। আর ওমেরা গ্যাস কিনছি ১৪শ ২০ টাকায় আর বিক্রি করছি ১৪শ ৫০টাকা দরে। ডিলারের কাছ থেকেই বাড়তি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে আমাদেরকে যার কারনে আমাদেরকেও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। বলছে গ্যাসের সংকট পাওয়া যাচ্ছেনা কোম্পানি ঠিকমত গ্যাস দিচ্ছেো যার কারনে দাম বেশী বলছেন তারা। 

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দিনাজপুর এর সহকারী পরিচালক বোরহান উদ্দিন বলেন, ইতোমধ্যেই আমরা গ্যাস সিলিন্ডারের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি। কেউ যদি কোন প্রকার কারসাজি করে মজুত করে দাম বাড়ায় তা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানাসহ অন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। কারো কাছে বাড়তি দাম নিলে গ্রাহক আমাদের অভিযোগ দিলে সেই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বার্থে এই ধরনের অভিযান আমাদের সংস্থার পক্ষ থেকে অব্যাহত থাকবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত