হারের পর টটেনহ্যামের কর্মকর্তাদের মিথ্যুক বললেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম

টটেনহ্যামের জন্য পরিস্থিতি যেন দিনে দিনে আরও জটিল হয়ে উঠছে। মাঠের ভেতরের ব্যর্থতার সঙ্গে এবার যুক্ত হলো এক বিব্রতকর ঘটনা, যা নিয়ে সমর্থক ও গণমাধ্যম—দু’পক্ষেই আলোচনা তুঙ্গে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে বোর্নমাউথের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ভাইটালিটি স্টেডিয়ামে কফি হাতে হাঁটছিলেন টটেনহ্যাম কোচ থমাস ফ্র্যাঙ্ক। কিন্তু যে কাপটিতে কফি ছিল, সেটিতে ছিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্সেনালের লোগো—যা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

ঘটনাটি নিয়ে পরে প্রতিক্রিয়া দেন ফ্র্যাঙ্ক। তিনি বলেন, “আমি সত্যিই বিষয়টি খেয়াল করিনি। আমরা তো প্রতিটি ম্যাচ জিতছি না—এই পরিস্থিতিতে ইচ্ছাকৃতভাবে আর্সেনালের লোগো দেওয়া কাপ ব্যবহার করা আমার জন্য একেবারেই বোকামি হতো।” এমন ছোট ঘটনা নিয়ে এত আলোচনা হওয়ায় হতাশাও প্রকাশ করেন ডেনিশ কোচ। তবে অনেকের চোখে এটি কেবল হাস্যকর নয়, বরং এমন এক সময়ের প্রতীক, যখন টটেনহ্যাম মাঠে ও মাঠের বাইরে—দুই জায়গাতেই চাপে রয়েছে।

সেই চাপ আরও বেড়েছে বোর্নমাউথের বিপক্ষে নাটকীয় হারের পর। যোগ করা সময়ের গোল হজম করে ৩–২ ব্যবধানে ম্যাচ হারেছে টটেনহ্যাম। এই হারে ২০ দলের লিগে নেমে গেছে ১৪ নম্বরে। শেষ ১২ লিগ ম্যাচে মাত্র দুটি জয়—পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, ছন্দ কতটা ভেঙে পড়েছে দলটির।
ম্যাচ শেষে ক্ষুব্ধ সমর্থকদের সামনে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিও তৈরি হয়। ডিফেন্ডার মিকি ভান ডে ভেন এক পর্যায়ে সফরকারী টটেনহ্যাম সমর্থকদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। তাকে ক্ষুব্ধ ভঙ্গিতে ইশারা করতে দেখা যায়, পরে ক্লাব স্টাফরা হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি সামাল দেন।

এরই মধ্যে অধিনায়ক ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইনস্টাগ্রামে দীর্ঘ বার্তায় আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার প্রথমে সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চান দলের হতাশাজনক ফলাফলের জন্য। একই সঙ্গে ক্লাবের ভেতরের কিছু ‘অদৃশ্য’ ব্যক্তির প্রতিও ইঙ্গিতপূর্ণ সমালোচনা করেন তিনি। রোমেরো লেখেন, “এমন সময়ে অন্যদের সামনে এসে কথা বলা উচিত, কিন্তু তারা তা করেন না—এটা বহু বছর ধরেই হয়ে আসছে। ভালো সময় এলেই শুধু তাদের দেখা যায়,  কিছু মিথ্যা কথা বলার জন্য।' পরে অবশ্য পোস্ট থেকে মিথ্যা শব্দ বাদ দেন তিনি।

নিজেদের দায় স্বীকার করে রোমেরো আরও লেখেন, “এই পরিস্থিতির দায় আমাদেরই। প্রথম দায়টা আমার। যারা সব জায়গায় আমাদের অনুসরণ করেন, সব সময় পাশে থাকেন—তাদের কাছে আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। তবে আমরা লড়াই চালিয়ে যাব এবং পরিস্থিতি বদলাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।” তিনি জোর দেন একতা ও কঠোর পরিশ্রমের ওপর, বলেন—চুপ থেকে কাজ করে যাওয়াটাই এমন সময়ে ফুটবলের অংশ।

রোমেরোর পোস্টে সমর্থন জানিয়েছেন সতীর্থ রিচার্লিসনসহ আরও কয়েকজন খেলোয়াড়। তবে এসব বার্তা টটেনহ্যামের বর্তমান বাস্তবতাকে আড়াল করতে পারছে না। গ্রীষ্মে ব্রেন্টফোর্ড ছেড়ে এসে আঞ্জে পোস্টেকোগলুর স্থলাভিষিক্ত হওয়া থমাস ফ্র্যাঙ্কের জন্য এটি ক্যারিয়ারের সবচেয়ে চাপের সময়। পোস্টেকোগলু ইউরোপা লিগ জিতিয়েও লিগে ১৭তম হওয়ায় চাকরি হারিয়েছিলেন; আর ফ্র্যাঙ্কের অধীনে এখন সমর্থকদের অসন্তোষ বাড়ছে দলের রক্ষণশীল ও ফলহীন ফুটবল নিয়ে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত