চট্টগ্রামের জামালখানে বইকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠল এক ব্যতিক্রমী সাংস্কৃতিক আয়োজন। স্টোরিটেলিং প্ল্যাটফর্ম ফেইল্ড ক্যামেরা স্টোরিজের উদ্যোগে সপ্তম বারের মতো অনুষ্ঠিত হলো দিনব্যাপী বই বিনিময় উৎসব। এ উৎসবের পুরনো বইয়ের বিনিময়ে নতুন বই পাওয়া যায়।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় জামালখান সড়কে অনুষ্ঠিত এই উৎসবের উদ্বোধন করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক হরিশংকর জলদাস। সড়কের দুইপাশে আলাদা আলাদা ১১টি স্টলে কথাসাহিত্য ও উপন্যাসের পাশাপাশি বিনিময় হয় কবিতার বই, শিশুতোষ গল্পগ্রন্থ, ম্যাগাজিন, একাডেমিক বই, প্রবন্ধ, ধর্মতত্ত্ব ও দর্শন, রাজনীতি, আত্মজীবনী, ইতিহাস, ক্যারিয়ার বিষয়ক ও বিজ্ঞানভিত্তিক বই।
সকালে শুরু হওয়া এই উৎসব চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত। এবারের আয়োজনে যোগ হয়েছে আলোকচিত্র ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী।
জামালখান মোড়ে উৎসবস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকে ভিড় জমাতে থাকেন বইপ্রেমী মানুষ। হাতে পড়া শেষ করা বই, চোখে নতুন বই পাওয়ার আগ্রহ শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, লেখক, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের মিলনমেলায় পরিণত হয় পুরো এলাকা।
পাঠক রুবেল বলেন, এই বই বিনিময় উৎসব প্রমাণ করে বইয়ের প্রতি ভালোবাসা এখনও নিঃশেষ হয়নি। বরং সঠিক উদ্যোগ আর আন্তরিক আয়োজন থাকলে বই আজও মানুষকে একত্র করতে পারে, তৈরি করতে পারে আলোকিত সমাজের আশা।
উৎসবে অংশ নেওয়া স্কুল শিক্ষার্থী রাফান আহমেদ বলেন, এখানে এসে শুধু বই পাইনি, ইতিহাস ও স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। নিজের পঠিত কিছু বই দিয়ে আমি অন্যদেরগুলো পেয়েছি।
একজন প্রবীণ পাঠক বলেন, বই আর সংস্কৃতিই পারে সমাজকে সঠিক পথে রাখার শক্তি জোগাতে।
বই বিনিময়ের পাশাপাশি উৎসবে সমাজ, মানুষ ও সময়কে তুলে ধরা নানা আলোকচিত্র প্রদর্শনী হয়। আর ফিল্ম স্ক্রিনিংয়ে দেখানো হয় চিন্তাশীল ও মানবিক চলচ্চিত্র। এছাড়া এবারের উৎসব বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্রের লড়াইয়ে নিহত সকলের প্রতি উৎসর্গ করা হয়।
বই বিনিময় উৎসবের সমন্বয়ক ও ফেইল্ড ক্যামেরা স্টোরিজের পরিচালক সাইদ খান বলেন, প্রতিবারই আমাদের পাঠকের সংখ্যা বাড়ছে। পাঠকের কথা বিবেচনায় এবার উৎসবের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। সামনে আরও বড় পরিসরে এ আয়োজনের পরিকল্পনা আছে। এবারের উৎসবে প্রায় ২৫ হাজার বই দেওয়া-নেওয়া হবে বলে আমরা আশা করি।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক সামসুদ্দিন ইলিয়াস, বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিক জিএইচ হাবিব ও সিটি ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট আল জোবায়েদ। বক্তারা পাঠচর্চা ধরে রাখার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক আন্দোলন হিসেবে বই বিনিময় উৎসবের গুরুত্ব তুলে ধরেন।