বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) নতুন এক ইতিহাসের জন্ম দিলেন বাঁহাতি পেসার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে প্রথম বোলার হিসেবে দুবার হ্যাটট্রিক করার অনন্য কীর্তি গড়েছেন তিনি। শুক্রবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় হ্যাটট্রিকটি পূর্ণ করেন রংপুর রাইডার্সের এই পেসার।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য মোটেও স্বস্তির ছিল না মৃত্যুঞ্জয়ের জন্য। ইনিংসের প্রথম দুই ওভারে তিনি উইকেটশূন্য থেকে দেন ৩৫ রান। ব্যাটারদের দাপটে কিছুটা চাপে পড়লেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্তটি নিজের করে নেন তিনি। ইনিংসের শেষ ওভারে টানা তিন ব্যাটারকে আউট করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন এই পেসার।
২০তম ওভারে বল তুলে দিতে রংপুর অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান আস্থা রাখেন মৃত্যুঞ্জয়ের ওপর। শুরুটা তখনো কঠিনই ছিল। ওভারের প্রথম বলে দুই রান নেওয়ার পর দ্বিতীয় বলে ছক্কা হাঁকান নোয়াখালীর উইকেটকিপার ব্যাটার মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। কিন্তু এরপরই দৃশ্যপট বদলে যায়। তৃতীয় বলে অঙ্কনকে ক্যাচ বানান অধিনায়ক সোহান। পরের দুই বলে যথাক্রমে জহির খান ও বিলাল সামিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিক সম্পন্ন করেন মৃত্যুঞ্জয়।
মৃত্যুঞ্জয়ের আগে খুশদিল ও মোস্তাফিজের সামনেও হ্যাটট্রিকের সুযোগ এসেছিল। তবে তারা কাজে লাগাতে পারেননি।
এই স্পেলের মাধ্যমে মৃত্যুঞ্জয়ের বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড়ায় ২.৫ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট। তাঁর বিধ্বংসী শেষ ওভারের ধাক্কায় ১৪৮ রানে গুটিয়ে যায় নোয়াখালী এক্সপ্রেস। বিপিএলের ইতিহাসে এটি দশম হ্যাটট্রিক। এর আগে ২০২২ সালের আসরেও হ্যাটট্রিক করেছিলেন মৃত্যুঞ্জয়, ফলে তিনিই এখন পর্যন্ত একমাত্র বোলার যিনি বিপিএলে দুবার এই কীর্তি গড়লেন।
বিপিএলের ইতিহাসে মৃত্যুঞ্জয়ের পাশাপাশি আরও আটজন বোলার হ্যাটট্রিক করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মোহাম্মদ শামি, আল আমিন হোসেন, আন্দ্রে রাসেল, ওয়াহাব রিয়াজ, শরিফুল ইসলাম, আলিস আল ইসলাম, মঈন আলী ও মেহেদি হাসান রানা। চলতি আসরের প্রথম হ্যাটট্রিকটি করেন নোয়াখালীর বাঁহাতি পেসার মেহেদি হাসান রানা, যদিও সেই ম্যাচে তাঁর দল সিলেট টাইটান্সের কাছে পরাজিত হয়।
