জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনুভা জাবিন তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, একদিকে সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহ’ শব্দের নড়চড় না চাইলে গণভোটে ‘না’ এর জন্য ভোট চাইছে, অন্যদিকে ভোলায় ‘জামায়াতকে ভোট দিলে বেহেশত পাওয়া যাবে’ বলায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে ৩০ জন আহত। ধর্ম নিয়ে রাজনীতির ব্যবসা সবচেয়ে রমরমা এখন। ধর্ম নিয়ে যাদের রাজনীতি, তাদের থেকে বাঁচতে অপর ব্যালট বক্স এখন অনেকের জন্য একমাত্র আশ্রয়স্থল।
তিনি লিখেছেন, ‘মাঝে জুলাই সনদের ভেতর কি ছিল, কি নিয়ে গত ১টা বছর তুমুল আলোচনা সমালোচনা বা কথার লড়াই হল সবাই ভুলে গেছে। যারা পক্ষে লড়াই করল, তারাও নির্বাচনী কৌশলে আর নিরাপদ থাকতে গিয়ে ক্রেডিবিলিটি হারাল।’
এনসিপির সাবেক এই নেত্রী আরও লিখেছেন, ‘নিশ্চিতভাবে শুধু নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্বের সমালোচনা করা বা যারা সরকার গঠন করবে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলা, তাদের বিভিন্ন পলিসির সমালোচনা করা কারো একমাত্র রাজনীতি হতে পারে না। হাদি যেমন বলেছিল সারাক্ষণ প্রথম আলো ডেইলি স্টারের সমালোচনা না করে, ওদেরকে পুড়িয়ে মেরে ক্ষোভ না মেটায়ে পারলে ওরকম দু একটা বানায় দেখান, তারপর টেক্কা দেন।’
‘সামনের রাজনীতিও তাই। সারাক্ষণ একদল বিএনপি-জামায়াত-আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে যাবে আর তারা পিরিয়ডিক্যালি ক্ষমতায় আসবে এটা কতকাল চলবে? চলবে না। এদের বিকল্প বের হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার। আমরা না পারলে, আর কেউ, তারা না পারলে অন্য কেউ। কিন্তু ধর্ম নিয়ে রাজনীতি আর তোষামোদির রাজনীতি, দুটোই নেভার আগে জ্বলছে এখন।’
‘বাংলাদেশে নতুন প্রজন্মের কাছে সফল হওয়ার মানদন্ড হল টবের ফুল গাছ পর্যন্ত । ভিশন ওখানেই শেষ। যে কোন মূল্যে সবাই টবে লাগানো একটা গাছে ফুল ফোটাতে চায়। নিজের নীতিকে বিক্রি করেই সাধারণত এই ফুলের টবের মুল্য চুকাতে হয়। অনেকে আবার নীতিবান হওয়ার ভান ধরে জাতিকে বিভ্রান্ত করে কিন্তু দিন শেষে বের হয়, একটু বেশি অক্সিজেন দেয়া ফুলের টবের জন্য দর কষাকষিতে সেই ভান ধরতে হয়েছিল। কিন্তু এরা জানে না এদের সক্ষমতা একটা পুরো ফুলের বাগান করার মতো ছিল। নিজেদের ভিশন না থাকার কারণে, এরা ফুলের টবকে সর্বোচ্চ মানদন্ড ধরে দুর্বার গতিতে আপোস করে ফেলে।’
‘সামনের বিকল্প রাজনীতি তারই, যার ভিশন আছে। যে বা যারা জানে ফুলের বাগান করার সক্ষমতা তার আছে সে বা তারা কখনো ফুলের টবে নিজেকে সীমিত রাখবে না। সামনের রাজনীতি তারই হবে যার রাজনীতি ধর্ম, লিঙ্গ, জাতপাতের উর্ধ্বে উঠে মানুষ আর মানুষের অধিকার ভিত্তিক হবে আর জবাবদিহিতার অধীনে হবে।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘বলতে পারেন, আপা, ধানমন্ডি গুলশানে আরামে বসে এসব নীতি কথা বলা যায় কিন্তু রাজনীতি অনেক কঠিন, গ্রামে মাঠের রাজনীতির হিসাব অন্য। তাদের বলব, বাংলাদেশের জন্মের পর থেকে এখন পর্যন্ত রাজনীতি ধানমন্ডি-গুলশানই নিয়ন্ত্রণ করছে, যদি চান এই নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তন আসুক তাহলে সবার আগে এসব গতানুগতিক অজুহাত দেওয়া বন্ধ করে এমন কিছু চিন্তা করেন যেটা গত ৫৪ বছরে কেউ করে দেখাতে পারে নাই বা উদ্যোগ নিলেও দিন শেষে বিক্রি হয়ে বিলীন হয়ে গেছে। বিকল্প ছাড়া বিকল্প নাই।’
