ডা. শেখ শিমুল রহমান
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, আলোক মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার, মিরপুর-৬, ঢাকা
ব্রঙ্কিওলাইটিস হলো শিশুদের ফুসফুসের খুব ছোট শ্বাসনালি (Bronchioles)-এর ভাইরাসজনিত সংক্রমণ। এতে শ্বাসনালি ফুলে যায় এবং ভেতরে কফ জমে, ফলে শিশুর শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এ রোগটি সাধারণত ২ বছরের কম বয়সী, বিশেষ করে ৬ মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
কারণ
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি ভাইরাসের কারণে হয়। যেমন RSV (Respiratory Syncytial Virus), সবচেয়ে সাধারণ কারণ রাইনো ভাইরাস, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস ও অ্যাডিনো ভাইরাস।
কারা বেশি ঝুঁকিতে
ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের আক্রান্তের ঝুঁকি বেশি থাকে। প্রিম্যাচিউর (সময়ের আগে জন্মানো) শিশুদের, যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, জন্মগত হৃদরোগ বা ফুসফুসের সমস্যা আছে, যেসব শিশু ধূমপানের ধোঁয়া বা রান্নার ধোঁয়ার সংস্পর্শে থাকে।
লক্ষণ
প্রথমে সর্দি-কাশি দিয়ে শুরু হয়, এরপর নাক বন্ধ বা নাক দিয়ে পানি পড়তে থাকে। হালকা থেকে মাঝারি জ্বর, দ্রুত শ্বাস নেওয়া কিংবা শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, শ্বাসের সময় শিসের মতো শব্দ হওয়া, খেতে বা দুধ পান করতে না চাওয়া, কাশি বেড়ে যাওয়া, শিশুর ক্লান্ত বা দুর্বল লাগা, Wheezing না থাকলেও ব্রঙ্কিওলাইটিস হতে পারে।
গুরুতর লক্ষণ
নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। ঠোঁট বা নখ নীলচে হয়ে যাওয়া, খুব দ্রুত বা কষ্ট করে শ্বাস নেওয়া, বুক ভেতরের দিকে দেবে যাওয়া, দুধ বা খাবার একেবারেই খেতে না পারা, অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব বা অচেতনতা।
চিকিৎসা
ব্রঙ্কিওলাইটিস সাধারণত ভাইরাসজনিত, তাই অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয় না। চিকিৎসা মূলত সহায়ক (Supportive), ), নাকে নরমাল স্যালাইন ড্রপ দেওয়া, পর্যাপ্ত দুধ ও তরল খাওয়ানো, জ্বর হলে প্যারাসিটামল, শিশুকে মাথা একটু উঁচু করে রাখা, শ্বাসকষ্ট বেশি হলে হাসপাতালে নিয়ে অক্সিজেন দেওয়া, গুরুতর ক্ষেত্রে ওঠ IV fluid, nebulization ও পর্যবেক্ষণ করা। বেশিরভাগ শিশু ৩ থেকে ৭ দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। তবে কাশি ২ থেকে ৩ সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। বাড়িতে শিশুর যত্ন নিতে হবে। নিয়মিত নাকে স্যালাইন ড্রপ দেওয়া। ঘর পরিষ্কার ও ধুলামুক্ত রাখা। ধোঁয়া (সিগারেট বা রান্না) থেকে দূরে রাখতে হবে। বারবার অল্প অল্প করে দুধ ও পানি পান করাতে হবে। শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাস লক্ষ্য রাখতে হবে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুম নিশ্চিত করা।
প্রতিরোধ
নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস করানো, ঠান্ডা-কাশি আছে, এমন ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা। ধূমপান ও ধোঁয়া সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলা। উচ্চ ঝুঁকির শিশুদের ক্ষেত্রে জঝঠ প্রতিরোধে, Antiviral medicine ইনজেকশন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিতে পারেন।
সচেতন থাকি
ব্রঙ্কিওলাইটিস সাধারণত নিজে নিজেই ভালো হয়, কিন্তু গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে নেওয়াই শিশুর জীবন রক্ষা করতে পারে। সবাই সচেতন থাকা জরুরি।
