আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য মোতায়েন হওয়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন (ইইউইওএম) বলেছে, এ নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছ উপায়ে, শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। গতকাল রবিবার ঢাকায় মিশনের এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলা হয়।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন (ইইউইওএম) মোতায়েন করেছে। লাটভিয়ার ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ও প্রধান পর্যবেক্ষক ইভারস আইজাবসের নেতৃত্বে এ মিশন গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে কাজ শুরু করে।
ইভারস আইজাবস গতকালের সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের কাজ নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ^াস বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। ইইউইওএম-এর ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক গতকাল থেকে কাজ শুরু করেছেন, যাদের ৬৪টি প্রশাসনিক জেলায় মোতায়েন করা হবে।
ইভারস আইজাবস বলেন, এ নির্বাচন একান্তই বাংলাদেশের জনগণের। মিশন নির্বাচনপ্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবে, তবে ফলাফল প্রত্যয়ন করবে না। তবে নির্বাচনের দুই দিন পর আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। নির্বাচনের দুই মাস পর একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে, যেখানে ভবিষ্যতের নির্বাচনের জন্য সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
তিনি বলেন, মিশনটি নির্বাচন প্রস্তুতি, আইনগত কাঠামো ও তার বাস্তবায়ন, নির্বাচনী প্রচার ও নির্বাচনী বিরোধী নিষ্পত্তিসহ বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের জন্য নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল, বিচার বিভাগ, সুুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে। নারী, তরুণ প্রজন্ম ও ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীসহ সবার রাজনৈতিক নাগরিক অংশগ্রহণের সামগ্রিক পরিসর মূল্যায়ন করা হবে। নির্বাচন জাতীয় আইন অনুযায়ী কতটা পরিচালিত হয়েছে, পাশাপাশি বাংলাদেশ যেসব আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক মানদ- গ্রহণ করেছে, সেগুলোর সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা মূল্যায়ন করবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের জন্য মিশনের কারিগরি মূল্যায়ন তিনটি মূলনীতির মাধ্যমে পরিচালিত হয়: স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা ও হস্তক্ষেপহীনতা। এক্ষেত্রে মিশন দীর্ঘমেয়াদি ও দেশব্যাপী পর্যবেক্ষণের একটি শক্তিশালী ও সুপ্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি অনুসরণ করবে।
২০০৮ সালের পর এটিই বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রথম পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন। এতে ইইউভুক্ত ২৭ দেশের পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের মোট ২০০ পর্যবেক্ষক অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক ছাড়াও ঢাকাভিত্তিক ১১ জন বিশ্লেষক, ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক, সংশ্লিষ্ট দেশের ঢাকায় কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধি ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি প্রতিনিধিদল পর্যবেক্ষণ মিশনে যোগ দেবে।
ইইউইওএম প্রধান পর্যবেক্ষক ইভারস আইজাবসের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল গতকাল পরে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সাক্ষাৎ করে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের জানান, প্রধান উপদেষ্টা ইইউইওএম প্রতিনিধিদের জানান নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য করতে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংস্কারের পক্ষে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য সরকার সচেতনতা তৈরি করবে।
ইইউইওএম প্রতিনিধিদের জানানো হয়, অন্তর্বর্তী সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য সচেতনতা তৈরির জন্য প্রচার চালাতে পারে কি না, সে বিষয়ে সরকার আইনি পরামর্শ নিয়েছে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে, সরকারের ‘হ্যাঁ’ ভোট চাইতে কোনো আইনি প্রতিবন্ধকতা নেই।
