জাতীয় পার্টির দুই অংশ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে। জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন অংশ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিলেও আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন অংশ নির্বাচন বর্জন করেছে। উভয় পক্ষই সুষ্ঠু ভোট অনুষ্ঠানে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
দলের দুই অংশই ‘লেভেল প্লেইং ফিল্ড’ বা সবার জন্য সমান সুযোগ না থাকার অভিযোগ করেছে এবং প্রশাসনকে দ্রুত নিরপেক্ষতা প্রমাণের আহ্বান জানিয়েছে।
নির্বাচনের আগে বরাবরই জাতীয় পার্টি রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আওয়ামী লীগ এবারের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় জাতীয় পার্টিকে নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। বিএনপি জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে চাইলেও, এর বিরোধিতা করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন অংশ এখনো নির্বাচনের মাঠে থাকলেও, আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বে গঠিত ‘জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট’ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। দলটির নেতাদের অভিযোগ, তফসিল ঘোষণার পর শরীফ ওসমান হাদী হত্যা, পত্রিকা অফিস, ছায়ানট ও উদীচীতে হামলার মতো ঘটনা সুষ্ঠু ভোটের লক্ষণ নয়।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলেও তাঁরা মনে করেন।
জাতীয় পার্টির (আনিসুল অংশ) মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারগুলোর সময় যে লেভেল প্লেইং ফিল্ড দেখেছি, এবার তার ছিটেফোঁটাও নেই। সরকার যদি সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত না করে, তবে তাকে ‘একচোখা সরকার’ বলা চলে।
অন্যদিকে, জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন অংশের মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, সরকারকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড অবশ্যই বজায় রাখতে হবে। সরকারের সুষ্ঠু ভোট করার স্বদিচ্ছার অভাব আমরা অনেক দিন ধরেই দেখছি। এবারও মাঠে গিয়ে অনুভব করেছি।
নির্বাচন বর্জন করা অংশের নেতারা বলছে, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে ছাড়া নির্বাচন হলে তা বড় প্রশ্নের মুখে পড়বে। এদিকে জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন অংশ বলছে, দলের বিরুদ্ধে মব সৃষ্টি বন্ধ না হলে নির্বাচনে থেকে সরে দাঁড়াবে জাতীয় পার্টি।
শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, সরকার যদি ‘মব’ (উচ্ছৃঙ্খল জনতা) নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তবে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এই মব যদি প্রশাসন ও পুলিশকে গ্রাস করে ফেলে এবং আমাদের প্রার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তবে আমরাও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হব।
রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, মব বিষয়টাই তো একটা শক্তি প্রয়োগ। সেটার কারণে যদি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনে বাধা তৈরি হয়, সেটা তো একটা ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে।
