ইশতেহারের অপেক্ষায় তরুণরা

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:১৩ এএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো তরুণ ভোটারদের পছন্দের দল হওয়ার জন্য পুরোদমে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের মন জয় করতে নানা পর্যালোচনা-গবেষণা অব্যাহত রেখেছে নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকা রাজনৈতিক দলগুলো। সোয়া চার কোটি তরুণ ভোটারও তাকিয়ে আছেন রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারের দিকে। ইশতেহার দেখে তরুণ ভোটাররা ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তরুণ সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে এমন ধারণাই পাওয়া গেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর পুরনো ধ্যান-ধারণার আশ্বাস আর গ্রহণ করবে না তরুণ সমাজ।

তরুণ সমাজের সোজাসাপ্টা কথা ঘোষিত ইশতেহারে তরুণদের চাহিদা, সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে গুরুত্ব দেবে যে দল, তরুণ ভোটাররা সে দলকেই ভোট দিতে আগ্রহী ও উৎসাহী হয়ে উঠবেন। আবার কথার ফুলঝুরি শুধু নয়, প্রতিশ্রুতি পূরণে ও বাস্তব অঙ্গীকারে দলগুলো কতটা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়, সেটিও ভালোভাবে যাচাই করবেন তরুণরা। তরুণ ভোটারদের, যাদের বয়স ১৮ থেকে ৪৫ বছর বিবেচনা করা হয়েছে, বিভিন্নজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তরুণ সমাজ রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারের ব্যাপারে দারুণ উৎসুক। চৌকস প্রতিশ্রুতির ইশতেহার তারা দেখতে চান, প্রতিশ্রুতি পূরণের সক্ষমতার বিষয়টিও তারা যাচাই করে দেখতে চান দেখে-শুনে-বুঝেই তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে আগ্রহী। শুধু কথায় চিড়া ভেজানোর কৌশলে যারা আগ্রহী, তাদের কথায় আস্থা রাখতে চান না তরুণ ভোটাররা।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৬ লাখ, প্রায় পৌনে ১৩ কোটি; তরুণ ভোটার (১৮ থেকে ৪৫ বছর পর্যন্ত) ৪ কোটি ২৫ লাখ, তারা মোট ভোটারের এক-তৃতীয়াংশ।

তরুণরা নিজেদের মূল্যবান ভোট কোন দলকে দিতে প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন? দেশ রূপান্তরের এ প্রতিবেদককে তরুণরা এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে তারুণ্যনির্ভর রাজনৈতিক শক্তির আবির্ভাব ঘটেছে। এটি আশার কথা। নতুন সেই শক্তিগুলোর কাছে তরুণ সমাজের বিস্তর আশা। আশা পূরণের যথাযথ প্রতিশ্রুতি দিতে পারলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক শক্তি ও তরুণ নেতৃত্বের দিকে ঝুঁকে পড়ার সম্ভাবনা কম নয় বলে জানিয়েছেন তরুণ ভোটাররা। তবে ব্যতিক্রমী বক্তব্যও পাওয়া গেছে কারও কারও কাছ থেকে।

একাধিক তরুণ ভোটার বলেছেন, ৫ আগস্টের পর তরুণ সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের ঘটনা ঘটেছে। তরুণ সমাজ ও তরুণ নেতৃত্ব বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত। এসব কারণে দল ও মত নির্বিশেষে বড় তরুণ গৌষ্ঠী তারুণ্যনির্ভর রাজনৈতিক দলের ওপর নেতিবাচক ধারণাও পোষণ করছে। তবে বেশ কয়েকজন তরুণ ভোটার, যাদের সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হয়েছে, বলেন, বড় দলের দিকে ঝুঁকে আছে তরুণ সমাজের বড় একটি অংশ। এ অংশটিকে পুঁজি করতে চাইলে দলের ইশতেহারে তরুণ সমাজের সুযোগ-সুবিধা সুরক্ষিত করার ঘোষণা থাকতে হবে। ইশতেহারে যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা রাখবে রাজনৈতিক দলগুলো, তরুণ সমাজ সেটি বিবেচনায় নিয়েই দলের পক্ষ নেবে। মোদ্দা কথা হলো, তরুণ সমাজকে আকৃষ্ট করতে হলে তাদের চাওয়ার-পাওয়ার বিষয়টির প্রতিফলন ঘটাতে হবে ইশতেহারে। কী সুযোগ রাখবে বড় রাজনৈতিক দলগুলো, সেসব বিষয়ে আকৃষ্ট হয়েই ভোট দেবে তরুণ সমাজ। তরুণদের বড় অংশ মনে করে, একটা স্মার্ট, আধুনিক ও উন্নত দেশ গঠনে তরুণদের ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তরুণদের দেশ গঠন করায় উপযোগী করে তুলতে রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্যোগ কী হবে, তারুণ্যের শক্তিকে কীভাবে কাজে লাগানো হবে সে বিষয়ক ঘোষণা বা অঙ্গীকার দেখে আসন্ন নির্বাচনে কাকে ভোট দেওয়া যায়, তা ঠিক করবেন তরুণ ভোটাররা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক (বয়স ৪৩ বছর) নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি চাই শান্তির বাংলাদেশ। সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারার মতো দেশ চাই। ইশতেহারে যে রাজনৈতিক দল এটি নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করবে, আমি তাদের ভোট দেব।’

কনটেন্ট ক্রিয়েটর শামীম মাজহার (বয়স ২৬ বছর) বলেন, ‘রাজনৈতিক দলের কাছে বদলে যাওয়ার বাংলাদেশ আশা করছি।’

ঢাকার পাঠাওচালক (বয়স ২৩ বছর) মনসুর হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ইশতেহারে বাংলাদেশকে নিরাপদ অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর অঙ্গীকার যে দলের থাকবে আমি সে দলকে ভোট দেব। রাজনৈতিক হানাহানি, মারামারির সংস্কৃতি থেকে যে দল দেশকে বের করে আনার ঘোষণা দেবে, আমি সে দলের পক্ষে।’

ইস্কাটনের হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল রোডে ভাসমান ব্যবসা করেন শেখ সোলায়মান (বয়স ২১ বছর)। তিনি বলেন, ‘বেকারত্ব দূরীকরণে যে দল যত বেশি গুরুত্ব দেবে, উদ্যোগ নেবে আমি সে দলের ভোটার। দেশের মানুষের নিশ্চিত ভবিষ্যৎ গড়ার নিশ্চয়তা দিতে পারার সরকার চাই।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের আইনের ছাত্র (বয়স ২৪ বছর) শাহরিয়ার হোসাইন বলেন, ‘মাথা উঁচু করে চলার বাংলাদেশ যে দল উপহার দেবে, আমিও সে দলকে ভোট দেব। দাঙ্গা-হাঙ্গামার দেশ চাই না। সবার সমান অধিকারের দেশ চাই। হিংসাত্মক ও প্রতিশোধের রাজনীতির বিলোপ চাই। সৌহার্দ্যরে বাংলাদেশ চাই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত