মাদারীপুরে কাভার্ড ভ্যানের চাপায় ঘটনাস্থলে তিনজন ভ্যান আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও একজন। অলৌকিকভাবে বেঁচে যায় নিহতের সঙ্গে থাকা শিশু। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের জেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের তাতিবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় টায়ার জ¦ালিয়ে প্রায় দুইঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজটের। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে হাইওয়ে ও থানা-পুলিশ।
নিহতরা হলেন, মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের খামারবাড়ি এলাকার জাকির তালুকদারের স্ত্রী তাসলিমা বেগম (৩৫), একই এলাকার আব্বাস তালুকদারের স্ত্রী কোহিনুর বেগম (৪৫) ও ডাসার উপজেলার পান্তাপাড়া এলাকার রহুল হাওলাদারের ছেলে নয়ন হাওলাদার। তারা সবাই ভ্যান যাত্রী ছিলেন।
এ ছাড়া গুরুতর আহত অবস্থায় ভ্যানচালক রনি খান মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি ঘটমাঝি ইউনিয়নের তাতিবাড়ি এলাকার বিল্লাল খানের ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান যোগে মস্তফাপুর থেকে ভাঙা ব্রিজ এলাকায় যাচ্ছিলেন তালিমা, কোহিনুর ও নয়ন। তাদের সঙ্গে এক শিশুও ছিল। পথিমধ্যে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের তাতিবাড়ি এলাকায় এলে পেছন দিক থেকে আসা বরিশালগামী বেপরোয়া গতির একটি কাভার্ড ভ্যান তাদের ভ্যানটি চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ভ্যানটি গুড়িয়ে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থালেই কোহিনুর ও নয়ন নিহত হন। তাসলিমা ও রনিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাসলিমাকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। একই সঙ্গে অক্ষত অবস্থায় তাদের সঙ্গে থাকা শিশুটিকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা। পরে তাতিবাড়ি এলাকার ঘটনাস্থলে টায়ার জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বিক্ষুদ্ধরা। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। একপর্যায়ে মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে ও থানা পুলিশের প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
মাদারীপুরের মস্তফাপুর হাইওয়ে থানার ওসি মামুন রশিদ জানান, কাভার্ড ভ্যানের চাপায় ঘটনাস্থলে দুজন ও হাসপাতালে একজন নিহত হয়েছেন। তারা ভ্যানের যাত্রী ছিলেন। এ ঘটনায় ভ্যানচালক আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন। কাভার্ড ভ্যানটি পালিয়ে যাওয়ায় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। দ্রুতই শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
