বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করে যাওয়া দুই কূটনীতিক ড্যান মোজেনা ও মার্শা বার্নিকাট সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। খালেদা জিয়ার স্মরণে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে এক স্মরণসভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিজেদের স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে তারা এ অনুভূতির কথা জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এ স্মরণসভায় দেশটির কূটনীতিক, কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা অংশ নেন। মেক্সিতো নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারীর আয়োজনে স্মরণসভাটি হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের দুই সাবেক রাষ্ট্রদূত ড্যান মোজেনা ও মার্শা বার্নিকাট, ভয়েস আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রাক্তন প্রধান ইকবাল বাহার চৌধুরী, বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মুর্তজা, আমেরিকান ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের অধ্যাপক এহতেশামুল হক, প্রেস ক্লাবের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মার্ক শেফ, এপির সাবেক সম্পাদক ম্যারন বিলকাইন্ড ও স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো স্টিভ রোজ আলোচনায় অংশ নেন।
ড্যান মোজেনা বলেন, বাংলাদেশের জন্য অসামান্য অবদান রেখেছেন খালেদা জিয়া। গণতন্ত্র ও বাংলাদেশের উন্নয়নের ইতিহাসে তার নাম স্মরণীয় হয়ে থাকবে। অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্য দিয়ে তিনি সংগ্রাম করে গেছেন। অন্যরা যখন কষ্টে হাল ছেড়ে দিয়েছে, তিনি কখনো তা করেননি।
খালেদা জিয়াকে উন্মুক্ত এবং উদার হৃদয়ের মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে মোজেনা বলেন, তিনি খুব আন্তরিক ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। অন্যকে সম্মান দিয়ে নিজেও সম্মানিত হতেন। রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সবসময় আন্তরিক ছিলেন। তিনি সবার সঙ্গে যোগাযাগের বিষয়টি সহজ করে রেখেছিলেন। তার সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের উন্নতি ঘটেছে
আরেক সাবেক রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেন, খালেদা জিয়া বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণে কাজ করেছেন। বহু নির্যাতন সহ্য করেও খালেদা জিয়া কখনো অভিযোগ করেননি।
খালেদা জিয়ার সঙ্গে অনেকবার দেখা হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে বার্নিকাট বলেন, খুব বিপদ এবং সংকটের মধ্যেও তিনি ছিলেন হাস্যোজ্জ্বল এবং আন্তরিক। একজন নারী হিসেবে বাংলাদেশকে খালেদা জিয়া যেভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তা এশিয়া উপমহাদেশে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের গণতন্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের রক্ষক এবং অর্থনৈতিক প্রগতির নির্মাতা।
সাংবাদিক ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর রাজনীতির হাল ধরতে বাধ্য হলেও খালেদা জিয়া দীর্ঘসময় রাজনীতির কেন্দ্রে অবস্থান করেন।
আলোচনার আগে খালেদা জিয়ার জীবন ও রাজনৈতিক সংগ্রাম নিয়ে নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
