আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে শতাধিক ব্যক্তিকে গুম-খুনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিচার শুরুর আদেশ হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। গতকাল বুধবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত ট্রাইব্যুনাল জিয়াউলের বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করে। গত ১৭ ডিসেম্বর এ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিলকৃত অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। তার বিরুদ্ধে গুম ও হত্যাকা-ের সুনির্দ্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে, ২০১১ সালে গাজীপুরের পুবাইলে সজল নামে একজনসহ তিনজনকে গুলি করে হত্যা, ২০১০ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সময়ে বরগুনার বলেশ্বর নদীর মোহনায় ৫০ জন ব্যক্তিকে গুলি করে ও লাশ গুম করা এবং ২০১০ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বরগুনার বলেশ^র নদী সুন্দরবনের বিভিন্ন অঞ্চলে বনদস্যু দমনের নামে ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ। এ ছাড়া বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলমসহ আরও বেশ কয়েকজনকে গুমের ঘটনায় এ আসামির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে এবং এ বিষয়ে পৃথক তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে প্রসিকিউশন জানায়।
গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর ৬ আগস্ট জিয়াউল আহসানকে সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়। ১৬ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
