বিএনপি এগিয়ে থাকলেও চ্যালেঞ্জ জামায়াত-এলডিপি

দ. চট্টগ্রামের ৬ আসন

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৪২ এএম

নির্বাচন কমিশনের কঠোর আচরণবিধির কারণে মাঠে পুরোপুরি ভোটের আমেজ না এলেও দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রতিটি আসনে প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে ভোটের হিসাব মেলানো শুরু হয়ে গেছে। দোয়া মাহফিল, কর্মী সভা, উঠান বৈঠক, গণসংযোগসহ নানা কর্মসূচির আড়ালে চলছে নির্বাচনী প্রচারণা। বিএনপি, জামায়াত, এলডিপি, সুন্নি জোট, এনসিপিসহ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা রয়েছেন দক্ষিণ চট্টগ্রামের নির্বাচনী মাঠে।

এর মধ্যে চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী), চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) ও চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে বিএনপি। চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে এলডিপি এবং চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে জামায়াতে ইসলামী ভালো অবস্থানে রয়েছে। চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে বিএনপি, জামায়াত ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন অভিজ্ঞ মহল।

চট্টগ্রাম-৮ আসন : বিএনপির মনোনয়নে প্রার্থী হয়েছেন দলের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর মো. আবু নাছের, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জোবাইরুল হাসান, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত মোহাম্মদ হাসান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মো. এনায়েত উল্লাহ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. নুরুল আলম এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মোহাম্মদ এমদাদুল হক প্রার্থী হয়েছেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় গত ৫ নভেম্বর সন্ত্রাসী হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এরশাদ উল্লাহ। সুস্থ হয়ে আবারও নির্বাচনী মাঠে ফিরেছেন তিনি। এলাকায় দলের অবস্থান ও নিজের অতীত নির্বাচনী অভিজ্ঞতার কারণে অন্য প্রার্থীদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন তিনি। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট আসনটি এনসিপিকে ছেড়ে দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো মাঠে আছেন জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী মো. আবু নাছের। একই সঙ্গে এনসিপি প্রার্থী জোবাইরুল হাসানও নিয়মিত প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। বাকি প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত মোহাম্মদ হাসানের প্রচারণা বেশ চোখে পড়ার মতো।

চট্টগ্রাম-১২ আসন :

বিএনপি এখানে প্রার্থী করেছে দলের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা কমিটির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হককে। স্থানীয় রাজনীতি ও পারিবারিকভাবে এলাকায় তার ভালো প্রভাব রয়েছে। রয়েছে বিশাল কর্মীবাহিনীও। এ আসনে মোট সাতজন প্রার্থী থাকলেও হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন এনামুল হক। অন্য প্রার্থীরা হলেন জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ ফরিদুল আলম, জাতীয় পার্টির ফরিদ আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু, গণঅধিকার পরিষদের এমদাদুল হাসান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এসএম বেলাল নূর এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. আবু তালেব হেলালী।

চট্টগ্রাম-১৩ আসন :

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তিনবারের সাবেক এমপি সরওয়ার জামাল নিজাম। আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসন থেকে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের আখতারুজ্জামান বাবুকে হারিয়ে এবং ২০০১ সালে আতাউর রহমান খান কায়সারের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। এবার তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এসএম শাহজাহান, জাতীয় পার্টির আবদুর রব চৌধুরী, খেলাফত মজলিশের মো. ইমরান, গণঅধিকার পরিষদের মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, এনডিএম-এর মো. এমরান ও ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মুহাম্মদ রেজাউল মোস্তফা।

চট্টগ্রাম-১৪ আসন :

চন্দনাইশ উপজেলা ও সাতকানিয়া উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে চারবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন অলি আহমদ। ২০০৬ সালে বিএনপি ছেড়ে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) গঠন করলেও নিজ এলাকায় তার প্রভাবে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। ২০০৮ সালে ‘ছাতা’ প্রতীক নিয়ে এলডিপি প্রার্থী হয়েও জয়ী হয়েছিলেন তিনি। এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজ আসনে ছেলে অধ্যাপক ওমর ফারুককে এলডিপি থেকে প্রার্থী করা হয়েছে। ছেলে প্রার্থী হলেও এ নির্বাচনকে অনেকটা নিজের প্রেস্টিজ ইস্যু হিসেবে নিয়েছেন অলি আহমদ। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়ায় এ আসনে জামায়াত এলডিপিকে ছাড় দিয়েছে। ফলে জামায়াত-প্রভাবিত সাতকানিয়ার ছয় ইউনিয়নের ভোট এলডিপির দিকে ঝুঁকবে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা। আসনটিতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন আহমেদ। মনোনয়নপত্র দাখিলের পর থেকে তার বিরুদ্ধে নানা সমালোচনা চলছে। আওয়ামী দোসর আখ্যা দিয়ে মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এ কারণে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা কিছুটা বেকায়দায় রয়েছে। তবে পুরোদমে মাঠে থাকতে পারলে ধানের শীষ ও ছাতা প্রতীকের মধ্যে জোরালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মৌলানা মো. সোলায়মানও আলোচনায় রয়েছেন। এ ছাড়া বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শফিকুল ইসলাম রাহী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আবদুল হামিদ, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের এইচএম ইলিয়াস ও জাতীয় পার্টি-জেপির মোহাম্মদ বাদশা মিয়া প্রার্থী রয়েছেন।

চট্টগ্রাম-১৫ আসন :

জামায়াতে ইসলামীর ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনে এবারও দলের প্রার্থী সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী। ১৯৯১ ও ২০০১ সালে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন তিনি। বিএনপি এখানে প্রার্থী করেছে নাজমুল মোস্তফা আমীনকে (বাড়ি লোহাগাড়া উপজেলায়)। আরেক প্রার্থী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শরীফুল ইসলাম চৌধুরী। দলীয় ও ব্যক্তিগত প্রভাবের কারণে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন।

চট্টগ্রাম-১৬ আসন :

এ আসনটি এবার দক্ষিণ চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি আলোচিত। বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ও এমপি প্রয়াত জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর পুত্র মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী। এ মনোনয়ন মেনে না নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাঠে নেমেছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান লেয়াকত আলী। নিজের জনপ্রিয়তা প্রমাণে বড় ধরনের শোডাউনও করেছেন তিনি। জামায়াত মনোনীত প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. জহিরুল ইসলাম।

মিশকাতুলের বাবা জাফরুল ইসলাম চৌধুরী একাধিকবার এ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হলেও বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে ধানের শীষের প্রার্থী কিছুটা বেকায়দায় রয়েছেন।

অন্যদিকে বিএনপির থেকে দুই প্রার্থীর কারণে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন।

এবার তিন প্রার্থীই সমানতালে আলোচনায় রয়েছেন এবং তাদের মধ্যে জোরালো লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে। আসনটিতে অন্য প্রার্থীরা হলেন এলডিপির মো. কফিল উদ্দিন চৌধুরী, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের আবদুল মালেক, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের এহসানুল হক, নেজামে ইসলাম পার্টির মোহাম্মদ মুসা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. রুহুল্লাহ ও গণঅধিকার পরিষদের মো. আরিফুল হক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত