টানা পাঁচ ম্যাচে সেরা পারফরমার হওয়াটা সহজ নয়। ঢাকার মাঠে এমন নজির আছে কীনা সেটা নিয়েও গবেষণা হতে পারে। তবে চলমান নারী ফুটবল লিগে ঘটেছে এমন ঘটনা। শনিবার বাংলাদেশ আর্মি স্পোর্টস ক্লাবের বিপক্ষে গোল করে ফরাশগঞ্জকে জয় এনে দেন শামসুন্নাহার জুনিয়র। ১-০ গোলের জয়ের ম্যাচে সেরা হয়েছে শামসুন্নাহার। আগের চার ম্যাচেও দলের সেরা পারফরমারের স্বীকৃতি পেয়েছিলেন তিনি। পাঁচ ম্যাচে একাই করেছেন ১৯ গোল। যেভাবে ছুটে চলছেন, লিগ শেষে শামসুন্নাহার কোথায় পোঁছাবেন তা দেখবার বিষয়। এদিকে চলতি লিগে সবচেয়ে বড় জয়ের দেখা পেয়েছে রাজশাহী স্টারস। তারা কাচারিপাড়া একাদশকে ২৪-০ গোলে হারিয়েছে।
আর্মি শনিবার মাঠে নেমেছিল আগের পাঁচ ম্যাচে জয়ের স্বস্তি নিয়ে। পয়েন্ট টেবিলেও তারা ছিল সবার ওপরে। তবে ফরাশগঞ্জের কাছে হারে তাদের জন্য শিরোপা লড়াইয়ে টিকে থাকা কঠিণ হয়ে পড়েছে। ফরাশগঞ্জ টানা পাঁচ ম্যাচ জিতে ভালোভাবেই আছে শিরোপা লড়াইয়ে। ৮২ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন শামসুন্নাহার। তার আগ পর্যন্ত ভালোই দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়েছে জাতীয় দলের বেশ কয়েকজনকে নিয়ে গড়া দল ফরাশগঞ্জকে। তাদের জয়ের নায়ক শামসুন্নাহার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, 'আমরা আজকে (গতকাল) কঠিন ম্যাচটা জিততে পেরেছি। পাঁচ ম্যাচের ম্যাচে আজকের ম্যাচটা সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ছিল। এই ম্যাচে গোল করতে পেরে অনেক খুশি লাগছে। তার কারণ আমার গোলেই দল জিতেছে। আমরা চাইব সব ম্যাচ ধারাবাহিকভাবে জিততে। পাঁচটা ম্যাচেই আমি ম্যান অফ দ্য ম্যাচ হয়েছি; এজন্য আরও ভালো লাগছে।’
ফরাশগঞ্জের এগিয়ে চলার কারণ জানাতে গিয়ে দলের অধিনায়ক মারিয়া মান্দা বলেন, ‘যেহেতু লিগ শেষ হয়নি, তাই শিরোপা জিতে গেছি এটা আগেভাগে বলা যায় না। আরও অনেক ম্যাচ আছে, কঠিন ম্যাচ আছে। এই ম্যাচগুলো শেষ হলেই আমরা আসলে বলতে পারব।’ অধিনায়কের কথার সঙ্গে সুর মিলিয়ে শামসুন্নাহার জুনিয়র আরও বলেন, 'আমার লক্ষ্য হচ্ছে প্রত্যেকটা ম্যাচে ভালো করা। আর ওরা (আর্মি) অনেক শক্তিশালী। প্রথমে দেখছেন তারা মার্ক করে খেলছিল। আমাদের মিডফিল্ডার মনিকা (মনিকা চাকমা), মারিয়া আপু দুইজন ছিল, কিন্তু দুজনকেই ওরা ব্লক করে দিয়েছে। প্রথমার্ধের পরে তহুরাকে নিচে দিয়ে আমি টপে চলে গেছি। যার কারণে ও (তহুরা) এই বলগুলো দিতে পেরেছি।’
দিনের অপর ম্যাচ কাচাড়িপাড়া একাদশের জালে রীতিমত গোলৎসব করেছে রাজশাহী স্টারস। তারা ম্যাচটা জিতেছে দুই ডজন গোলের ব্যবধানে। ২৪-০ গোলের এই জয়টাই চলতি লিগে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড। এর আগে নাসরিন অ্যাকাডেমিকে ২৩-০ গোলে হারিয়েছিল ফরাশগঞ্জ। বাংলাদেশের নারী ফুটবল লিগের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোল ব্যবধানের জয়টি পেয়েছিল শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ২০১১ সালে। তারা ২৬-০ গোলে হারিয়েছিল আরামাবাগ ক্রীড়া সংঘকে।
দ্বিতীয় মিনিটে ঋতুপর্ণাচারকার গোলে শুরু হয়। যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে যার শেষটা টানেন জাতীয় দলের এই উইঙ্গার। যদিও মাঝে আর কোনো গোলের পাননি তিনি। এ ম্যাচে সর্বোচ্চ ৮ গোল করেন সৌরভী আকন্দ প্রীতি। ৭ গোল আসে আলপি আক্তারের পা থেকে। হ্যাটট্রিক (৪ গোল) পেয়েছেন শাহেদ আক্তার রিপা। এছাড়া মুনকি আক্তার, স্বপ্না রানী এবং রেশমি একটি করে গোল করেন।
ষষ্ঠ রাউন্ড শেষে পয়েন্ট টেবিলে তিন দলের সংগ্রহ সমান ১৫ পয়েন্ট করে। তবে আর্মি খেলেছে ছয় ম্যাচ। রাজশাহী ও ফরাশগঞ্জ খেলেছে ৫টি করে ম্যাচ। তাই গোল গড়ে এগিয়ে থেকে রাজশাহী শীর্ষে, ফরাশগঞ্জ দ্বিতীয় স্থানে আর্মিকে থাকতে হচ্ছে তিনে। রাজশাহী ৫ ম্যাচে করেছে সর্বোচ্চ ৫৫ গোল। ফরাশগঞ্জের গোলসংখ্যা ৫০টি। এই দুই দল এখনও কোন গোল হজম করেনি। এদিকে গোল হজমে সেঞ্চুরির দিকে এগুচ্ছে কাচাড়িপাড়া। জামালপুরের ক্লাবটি মোট গোল খেয়েছে ৬ ম্যাচে ৮৮টি।
আল ফাহাদের ফাইফার; সূর্যবংশী-কুন্ডুর দৃঢ়তায় ভারত ২৩৮