নকলা

মাদকের টাকা না পেয়ে বাবাকে মারধর, শিশু হত্যার অভিযোগ

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম

শেরপুরের নকলা উপজেলার চর অষ্টধর ইউনিয়নের চরবসন্তী গ্রামে মাদকের টাকা না পেয়ে বাবাকে মারধর এবং নিজের শিশু কন্যাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাবু মিয়া (৩০) নামের এক ব্যক্তি এই মর্মান্তিক ঘটনার সঙ্গে জড়িত।

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) ভোরে ফজরের নামাজের পর চরবসন্তী গ্রামের রবি মিয়ার ছেলে বাবু মিয়া মাদকের টাকার দাবিতে প্রথমে তার বাবাকে মারধর করে এবং বাড়িতে থাকা আসবাবপত্র ভাঙচুর চালায়। 

এক পর্যায়ে রবি মিয়া টাকা দিতে অস্বীকার করলে বাবু মিয়া তার দুই কন্যা মরিয়ম আক্তার (৬) ও মিমকে (৪) গলা টিপে ধরে। এতে ঘটনাস্থলেই মরিয়ম আক্তারের মৃত্যু হয়।

অপরদিকে গুরুতর আহত মিমকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেরপুর সদর হাসপাতালে রেফার করেন।

মরিয়ম আক্তারের নিথর দেহ মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা বাবু মিয়াকে ঘরে তালাবদ্ধ করে নকলা থানায় খবর দেন। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন শেরপুরের পুলিশ সুপারসহ নকলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং উপ-থানার ইনচার্জ।

এ ঘটনায় পুলিশ নিহত মরিয়মের বাবা বাবু মিয়া এবং দাদা রবি মিয়াকে আটক করেছে। নকলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপ বলেন, স্থানীয়দের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। মরিয়ম (৬) নামের শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহত শিশু মিম (৪) বর্তমানে শেরপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আটককৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি প্যানেল চেয়ারম্যান দুলাল উদ্দিন জানান, বাবু মিয়া প্রায় এক সপ্তাহ আগে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে স্ত্রী হাসিনা বেগমের সঙ্গে টাকা নিয়ে ঝগড়া করে দুই মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসে। রবিবার সকালে তিনি খবর পান যে বাবু মিয়া তার মেয়েকে গলা টিপে হত্যা করেছে।

প্রতিবেশী লিয়াকত আলী জানান, গাঁজার টাকা না পেয়ে বাবু মিয়া প্রথমে তার বাবাকে মারধর করে এবং পরে নিজের মেয়েকে গলা টিপে হত্যা করে। পরে আমরা গিয়ে তাকে ঘরে তালাবদ্ধ করি।

এলাকাবাসী জানান, রবি মিয়ার তিন ছেলের মধ্যে অন্যরা ঢাকায় রিকশা চালান। বাবু মিয়া মাঝে মাঝে বাড়িতে এলে বাবা-মায়ের সঙ্গে টাকার জন্য ঝগড়া করত। টাকা না পেলে ভাঙচুর চালাত। তার এমন আচরণের ফলেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে তারা মনে করছেন। বাবু মিয়ার মা রুফেদা বেগম ওরফে ভেঙি ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত