সুতা আমদানিতে শুল্কমুক্ত বন্ড সুবিধা বাতিলের সুপারিশ

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:২১ পিএম

রপ্তানিমুখী পোশাক খাতকে উৎসাহিত করতে ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষম রাখতে আশির দশক থেকে নির্দিষ্ট কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা বাতিলের সুপারিশ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। স্থানীয় টেক্সটাইল মিলগুলোকে সুরক্ষা দিতে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতার ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের জন্য সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

এ ব্যবস্থায় শুল্ক ও কর ছাড়ে কম খরচে কাঁচামাল আমদানি করা সম্ভব হয়। তবে দেশীয় বস্ত্রকল মালিকদের অভিযোগ, এই সুবিধার অপব্যবহারে প্রতিবেশী দেশ, বিশেষ করে ভারত থেকে কম দামে সুতা আমদানি বেড়েছে। এর ফলে দেশীয় মিলগুলো ন্যায্য দামে সুতা বিক্রি করতে পারছে না এবং অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

দেশের বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর ও ২৯ ডিসেম্বর দুই দফা আবেদন জানায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) একটি বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন তৈরি করে, যা গত ৬ জানুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই এনবিআরকে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশ আসে বস্ত্র ও পোশাক খাত থেকে, যার ৫৫ শতাংশই নিট পোশাকের অবদান। নিট পোশাক উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল হলো ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতা, যা বাংলাদেশে মূলত ভারত থেকে আমদানি করা হয়। বিটিএমএর দাবি, দেশে এক কেজি সুতা উৎপাদনে খরচ পড়ে প্রায় ৩ ডলার, অথচ ভারত একই মানের সুতা উৎপাদন করছে ২ দশমিক ৮৫ থেকে ২ দশমিক ৯০ ডলারে এবং বাংলাদেশে রপ্তানি করছে প্রায় ২ দশমিক ৫ ডলারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত