বিপিএলে রান না পাওয়ায় দুর্নীতি দমন বিভাগের জেরার মুখে পড়েন সাইফ

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:১৬ পিএম

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলতি আসরে চরম বাজে ছন্দে ছিলেন সাইফ হাসান। প্রথম ৮ ম্যাচে করেন মাত্র ৬০ রান! তার দল ঢাকা ক্যাপিটালসও ছয় দলের মধ্যে পাঁচে থেকে আসর শেষ করেছে। তবে গতকাল নিজেদের সর্বশেষ ম্যাচে চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে তারা ৪২ রানের জয় পেয়েছে। ৭৩ রানের ইনিংস খেলেছেন সাইফ। এরপর জানিয়েছেন নিজের কষ্টের কথা।

বিপিএলের গত আসরে বেশ কয়েকটি ম্যাচ ঘিরে ফিক্সিং বিতর্ক তৈরি হয়। সেটা নিয়ে দীর্ঘ তদন্ত হলেও রিপোর্ট প্রকাশিত হয়নি। এবারের আসরে আলাদা ব্যবস্থা নেয় বিসিবি। দুর্নীতি দমনে নিজস্ব কর্মকর্তাদের সাথে আইসিসির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের সাবেক প্রধান অ্যালেক্স মার্শালকে নিয়োগ দেওয়া হয়। সন্দেহজনক ক্রিকেটারদের সাথে দুর্নীতি দমন বিভাগের আচরণ ভালো লাগেনি সাইফের।

মিরপুরে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘প্রথম দুই-তিন ম্যাচে যখন ক্লিক করিনি, ওদের (দুর্নীতি দমন কর্মকর্তারা) কাছে লেগেছে যে, আমার পারফরম্যান্সটা মিলছে না গত বছরের সঙ্গে; মানে গত বছর যেভাবে খেলেছি। ওদের কাছে জিনিসটা স্বাভাবিক লাগেনি। ওরা এসে হুট করে চার্জ করছে। এটা আমার ভালো লাগেনি। ডিস্টার্বড হয়েছি। আমি এটার জন্য ক্রিকেট খেলি না। আমি আমার প্যাশন নিয়ে ক্রিকেট খেলি। আমার পরিবারের ব্যাকগ্রাউন্ডও ওরকম না।’

একটি ম্যাচ চলাকালীন ড্রেসিংরুমে এসেও তারা জেরা করেছেন বলে জানান সাইফ, ‘ব্যাটিংয়ে নামার আগে জিজ্ঞেস করেনি। তবে তখন আমাদের ড্রেসিংরুমে এসেছিল। ড্রেসিংরুমে এসে জিজ্ঞেস করছে—ব্যাটিংয়ে নামছ নাকি বা এরকম। ব্যাটিংয়ে নামার আগে ড্রেসিংরুমে ছিলাম। তখন এসেছিল, আর তার আগের দিন রুমে এসেছিল। এই জিনিসটা নিয়ে আমি অনেক বিরক্ত হয়েছি অবশ্যই। তবে ম্যানেজমেন্টকে ধন্যবাদ, তারা সবসময় আমাকে সমর্থন দিয়ে গেছে।’

উল্লেখ্য, বিপিএলের এবারের সিলেট পর্বে বিসিবির দুর্নীতি দমন কর্মকর্তারা কয়েকজন ক্রিকেটারকে হেনস্তা করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। আফগানিস্তানের ক্রিকেটার রহমানুল্লাহ গুরবাজের কক্ষে আচমকা ঢুকে গিয়েছিলেন তারা। আফগান তারকা এই নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসর ছেড়ে চলে যেতেও চেয়েছিলেন। ঘটনাটি অপমানজনক উল্লেখ করে সাইফ বলেন, 'অবশ্যই বিস্ময়কর। আমি বিশ্রাম নেব, তখন হুট করে এসেছে। (রহমানুল্লাহ) গুরবাজ তো ঘুমাচ্ছিল, তখন এসেছে। আগে থেকে তো জানাবে! হুট করে আসা মানে… এটা তো অনেক অসম্মানজনক।’

এসব আচরণের জন্য পরবর্তীতে দুর্নীতি দমন বিভাগের কর্মকর্তারা দুঃখপ্রকাশ করেছেন বলেও জানান সাইফ, ‘তারা দুঃখিত বলেছে। রুমে এলো, আসার পর কথা বলল, যখন কিছু পায়নি, তখন সরি বলে চলে গেল। তার পরের কয়েকদিন বারবার দুঃখিত বলেছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত