রাজধানীর মাতুয়াইল এলাকায় র্যাব পরিচয়ে নারায়ণগঞ্জের স্বর্ণ ব্যবসায়ীর ৮০ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনায় জড়িত অন্যতম আসামি মো. বেল্লাল খান তুহিনকে (৩৮) গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১। রোববার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে পটুয়াখালী জেলার দশমিনা থানাধীন নলখোলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এ সময় আসামির কাছ থেকে ডাকাতি করা ২ লক্ষ ৩৭ হাজার ৯১০ টাকা, ১টি আইফোন ১৬, ১টি ভিভো স্মার্টফোন, ১টি সিম্ফোনি বাটন মোবাইল এবং ১টি সোনার আংটি উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার তুহিন পিরোজপুর জেলার মঠবাড়ীয়া থানাধীন মিরুখালর বড়শৌলা খানবাড়ি এলাকার মুখলেছ খানের পুত্র।
সোমবার বিকেলে র্যাব-১১ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ৭ জানুয়ারি বিকেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাতুয়াইল এলাকায় র্যাব পরিচয়ে নারায়ণগঞ্জের স্বর্ণ ব্যবসায়ীর ৮০ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা গামছা দিয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরের কালিরবাজার স্বর্ণপট্টির হাজী জুয়েলারির ব্যবসায়ী দুইজনের চোখ বেঁধে মারধর করে সড়কের পাশে ফেলে পালিয়ে যায়। আহত দুই ব্যবসায়ী হলেন নারায়ণগঞ্জ শহরের আমলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোজাম্মেল হক হুমায়ুন (৫২) ও ফজলে রাব্বি (২৮)।
উক্ত জুয়েলারির মালিক মনিরুল ইসলাম বুধবার সকালে স্বর্ণ বিক্রি করতে তার বড় ভাই মোজাম্মেল হক ও ভাগিনা ফজলে রাব্বিকে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মার্কেটের স্বর্ণ শিল্পালয়ে পাঠান। সেখানে স্বর্ণ বিক্রি করে নগদ ৮০ লাখ টাকা নিয়ে দুপুরে নারায়ণগঞ্জে ফিরতে ঢাকার গুলিস্তান থেকে শ্রাবণ পরিবহন নামের একটি বাসে ওঠেন। বিকেল ৩টার দিকে বাসটি যাত্রাবাড়ী থানাধীন মাতুয়াইল দা ওয়ান রেস্টুরেন্টের সামনে পৌঁছালে সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাস এসে চলন্ত বাসটির গতিরোধ করে।
এ সময় ওই গাড়ি থেকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত নেমে নিজেদের র্যাব পরিচয় দিয়ে দুই ব্যবসায়ীকে টাকার ব্যাগসহ বাস থেকে নামিয়ে তাদের গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাদের মারধর করে গামছা দিয়ে চোখ বেঁধে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দ সেতুর নিচে ফেলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাটি বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হলে দেশব্যাপী ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
উক্ত ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে র্যাব-১১ গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। পরবর্তীতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৮ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১১ টার দিকে নারায়ণগঞ্জ র্যাব-১১ এবং পটুয়াখালি র্যাব-৮ এর যৌথ আভিযানিক দল ঘটনার সাথে জড়িত অন্যতম আসামি তুহিনকে পটুয়াখালী জেলার দশমিনা থানাধীন নলখোলা এলাকা হতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতার আসামি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উক্ত ডাকাতির ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। এ ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।
