চব্বিশের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থান চলাকালে নারায়ণগঞ্জে হত্যাকান্ডসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের (এখন কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এ মামলায় শামীম ওসমানের ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়ন (অয়ন ওসমান), ভাতিজা আজমেরী ওসমানকেও আসামি করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন বিচারকের ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে পলাতক সব আসামিকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করে ২৬ জানুয়ারির মধ্যে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেয়।
এর আগে প্রসিকিউশনপক্ষে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। এতে অভ্যুত্থান চলাকালে নারায়ণগঞ্জ সদর ও ফতুল্লা এলাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে ৬ বছরের শিশু রিয়া গোপসহ ১০ জনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে। গতকাল প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ উপস্থাপন করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ ও ২১ জুলাই এবং ৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে হত্যাকান্ডসহ ছাত্র-জনতাকে নির্যাতন করেছেন আসামিরা। এর মধ্যে অস্ত্র হাতে শামীম ওসমান সরাসরি এসব ঘটনায় নেতৃত্ব দেন। শুনানিতে প্রসিকিউটর তামীম গণআন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে শামীম ওসমানের মোবাইলে কথোপকথনের রেকর্ড পড়ে শুনিয়ে বলেন, শামীম ওসমান বলছিলেন, অস্ত্র হাতে ছবি আসলে (গণমাধ্যমে) শেখ হাসিনা (তখনকার প্রধানমন্ত্রী) যেন রাগ না করেন।
প্রসিকিউটর তামীম পরে সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার সময় অসংখ্য ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়েছে। তার মধ্যে রিয়া গোপসহ ১০ জনকে হত্যা, অসংখ্য ছাত্র-জনতাকে গুলি করে, পিটিয়ে, কুপিয়ে আহত করার অভিযোগে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। আমরা অভিযোগে তিনটি ঘটনা এনেছি। ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ও এর সঙ্গে অন্য নথি পর্যালোচনা করে সব আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।
