বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে পৌঁছাতে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে নানামুখী তৎপরতা। তার সঙ্গে হ্যান্ডশেক করতে, মনের কথা জানাতে বেছে নিচ্ছেন অভিনব সব কৌশল। এরই অংশ হিসেবে তারেক রহমানের চলন্ত বুলেটপ্রুফ গাড়িতে রহস্যময় সাদা খাম সেঁটে দেয় দলেরই এক নেতা। অবশ্য তার এমন প্রচেষ্টা সফল হয়েছে। সাদা খাম এখন খোদ দলের চেয়ারম্যানের হাতে। তবে তাতে কী লেখা রয়েছে, তা জানা যায়নি। গতকাল সোমবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি চেয়ারম্যানের সিকিউরিটি ফোর্সের (সিএসএফ) এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে এ কথা জানিয়েছেন।
এদিকে তারেক রহমানের চলন্ত গাড়িতে টেপ দিয়ে সাদা খাম লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনায় নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। তারা বলছেন, বিএনপি চেয়ারম্যানের নিরাপত্তা সর্বাগ্রে নিশ্চিত করতে হবে। তার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিএসএফকে আরও সতর্ক হতে হবে। চলন্ত গাড়িতে কীভাবে খাম লাগানো হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা
দরকার। এ বিষয়ে সিএসএফের ওই সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারম্যানের নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। দলের চেয়ারম্যানের কাছে পৌঁছাতে নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে নানামুখী তৎপরতা। এর অংশ হিসেবেই বিষয়টিকে দেখছেন তারা। খামটি তারা খোলেননি। চেয়ারম্যান বিষয়টি দেখেছেন এবং খামটি তার কাছে রেখেছেন। চিঠিতে কী আছে তা আমরা জানি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘চেয়ারম্যানের গাড়ি বুলেটপ্রুফ। তার গাড়িতে কোনো ধরনের হামলার প্রচেষ্টা সফল হবে না।’
গত বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার গুলশান কার্যালয়ে অফিস শেষে বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় গুলশান ৬৫ নম্বর সড়কে তার চলন্ত গাড়িতে টেপ দিয়ে একটি সাদা খাম লাগিয়ে পালিয়ে যান এক মোটরসাইকেলের চালক। তারেক রহমান তখন ওই বুলেটপ্রুফ গাড়িতেই ছিলেন। এ সময় সামনে-পেছনে তার নিজস্ব নিরাপত্তা দল (সিএসএফ) ছিল। তবে ঘটনাটি প্রকাশ পায় গত রবিবার। এ বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র দেশ রূপান্তরকে বলেন, জানতে পেরেছি কোনো এক ভক্ত বিএনপির পরামর্শক হিসেবে তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করতে চান।
এ ঘটনায় গুলশান থানায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি জিডি করা হয়েছে। কিন্তু গত রবিবার রাত পর্যন্ত ওই মোটরসাইকেল কিংবা চালককে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার গুলশান থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেলের চালক এসে বিএনপি চেয়ারম্যানের গাড়িতে স্কচটেপ দিয়ে একটি খাম লাগিয়ে চলে যান। ওই সড়কের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে ফুটেজ স্পষ্ট নয়। ওই খাম পুলিশের কাছে দেওয়া হয়নি। সিএসএফের কাছে রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির গুলশান জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আলী আহমেদ মাসুদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, কয়েক দিন আগে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এক শুভাকাক্সক্ষী তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ না পেয়ে একটি চিঠিতে তার কথাগুলো লিখে গাড়িতে ঝুলিয়ে রেখে গেছেন। তবে ওই চিঠিতে কী লেখা ছিল, এটি জানতে পারিনি।
গত বুধবার গুলশান কার্যালয়ে অফিস শেষে বাসায় ফেরার আগে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চলন্ত বুলেটপ্রুফ গাড়িতে ‘রহস্যময়’ সাদা খাম সেঁটে এক মোটরসাইকেলের চালক দ্রুতবেগে চলে যান। গত বুধবারের এ ঘটনার পাঁচ দিন হয়ে গেলেও ওই মোটরসাইকেলের চালককে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।
গতকাল সোমবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান থানার ওসি রাকিবুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। শুধু মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।
ওসি বলেন, ‘আমরা নিজ উদ্যোগে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করছি। কিন্তু ফুটেজের ভিজুয়াল পরিষ্কার না থাকায় মোটরসাইকেল ও চালককে শনাক্ত করতে পারছি না। তবে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
ওই খামে কী ছিল জানতে চাইলে পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘খাম আমাদের হাতে দেওয়া হয়নি। তবে বিএনপি ও তারেক রহমানের নিরাপত্তায় যারা নিয়োজিত, তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খামের ভেতরে কোনো চিরকুট কিংবা চিঠি ছিল না। খামের ভেতর ফাঁকা ছিল, কোনো কিছু ছিল না। খালি খামটি টেপ দিয়ে লাগানো ছিল। তবে কী উদ্দেশ্যে এমন কাজ করা হয়েছে, তা আমরা তদন্ত করে দেখছি।’
সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, রাজধানীর গুলশানের ৬৫ নম্বর সড়কে গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাত ১১টা ৪১ মিনিটে সাদা হিরো হাংক মডেলের মোটরসাইকেলে আসা এক ব্যক্তি হঠাৎ তারেক রহমানের চলন্ত গাড়ির গায়ে টেপ দিয়ে একটি খাম সেঁটে দ্রুত আমেরিকান ক্লাবের দিকে চলে যায়। তারেক রহমান তখন ওই গাড়িতেই ছিলেন। তবে এ সময় তারেক রহমানের গাড়িবহরের নিরাপত্তায় থাকা সিএসএফ (চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স) কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।
