সুরের মহোৎসব ও সমকালীন সংস্কৃতি

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:২৫ এএম

সময়ের বিবর্তনে মানুষের বিনোদন এবং সংস্কৃতির প্রকাশভঙ্গি আমূল বদলে গেছে। আজ মিউজিক ফেস্টিভ্যাল বা সংগীত উৎসব শুধু গান শোনার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই; এটি এখন আধুনিক সভ্যতার এক বিশাল সাংস্কৃতিক মিলনমেলা। এ নিয়ে লিখেছেন অনিন্দ্য নাহার হাবীব

বর্তমান বিশ্বে মিউজিক ফেস্টিভ্যাল কেবল গান শোনার জায়গা নয়, বরং এটি আধুনিক সভ্যতার এক বিশাল সাংস্কৃতিক মিলনমেলা। এক সময় কনসার্ট বলতে কেবল প্রিয় শিল্পীকে মঞ্চে গান গাইতে দেখাই বোঝাত; কিন্তু এখনকার ফেস্টিভ্যালগুলো সেই ধারণাকে ছাপিয়ে অনেক বড় হয়ে উঠেছে। তরুণ প্রজন্মের কাছে এটি এখন যাপনচিত্র বা লাইফস্টাইলের অংশ। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে গান শোনা যতটা সহজ হয়েছে, মানুষের মধ্যে সরাসরি সুরের স্পন্দন অনুভব করার তৃষ্ণা ততটাই বেড়েছে। স্মার্টফোনের স্ক্রিনে মিউজিক ভিডিও দেখা আর হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে ধুলোবালি মেখে খোলা আকাশের নিচে প্রিয় ব্যান্ডের ড্রামসের বিট অনুভব করার মধ্যে যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য, সেটিই ফেস্টিভ্যালগুলোকে জনপ্রিয় করে তুলেছে। এখানে ফ্যাশন, ভ্রমণ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এক অদ্ভুত মেলবন্ধন ঘটে। পর্যটকরা এখন শুধু স্থাপত্য দেখতে দেশ-বিদেশ ঘোরেন না, বরং কোনো একটি বিশেষ ফেস্টিভ্যালের অংশ হতে মাইলের পর মাইল পাড়ি দেন। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে নিজের উপস্থিতিকে জানান দেওয়া এবং একটি বৃহত্তর সম্প্রদায়ের অংশ হওয়ার যে আকাক্সক্ষা, তাকেই পুঁজি করে আজকের এই উৎসবগুলো মহিরুহে পরিণত হয়েছে।

মরুভূমিতে আভিজাত্য ও গ্ল্যামার

বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত এবং দামি উৎসবগুলোর নাম নিলে শুরুতেই আসবে আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার কোচেলা ভ্যালি মিউজিক অ্যান্ড আর্টস ফেস্টিভ্যাল। মরুভূমির তপ্ত বালুর ওপর আয়োজিত এই উৎসবটি এখন আর কেবল গানের উৎসব নেই, এটি পরিণত হয়েছে ফ্যাশন এবং সেলিব্রিটি কালচারের এক প্রদর্শনীতে। ইনস্টাগ্রাম জমানায় কোচেলা হলো আভিজাত্যের প্রতীক। এখানে শুধু বিশ্বখ্যাত পপ তারকারা পারফর্ম করেন না, বরং হলিউডের বড় বড় তারকা থেকে শুরু করে ইনফ্লুয়েন্সাররা হাজির হন সব নামি ব্র্যান্ডের পোশাকে।

কোচেলাকে বলা হয় আধুনিক ফেস্টিভ্যালগুলোর জননী, কারণ এখান থেকেই নির্ধারণ হয় এ বছরের তরুণদের পোশাকের ধরন বা ফ্যাশন ট্রেন্ড কী হবে। ‘কোচেলা লুক’ এখন ফ্যাশন দুনিয়ায় একটি প্রতিষ্ঠিত টার্ম। আভিজাত্য এবং আধুনিকতার এই সংমিশ্রণ কোচেলাকে বিশ্বের সবচেয়ে আইকনিক উৎসবে পরিণত করেছে। তবে এর সমালোচনাকারীরা বলেন, এখানে গানের চেয়ে ‘দেখানো’ বা ‘প্রদর্শনীর’ প্রাধান্য বেশি। তবুও, ক্যালিফোর্নিয়ার সেই পাম গাছ আর সূর্যাস্তের পটভূমিতে যখন কোনো কিংবদন্তি শিল্পী পারফর্ম করেন, তখন তা এক অপার্থিব পরিবেশ তৈরি করে।

ব্রিটিশ ঐতিহ্যের শেকড়

আমেরিকার জাঁকজমকের বিপরীতে যুক্তরাজ্যের গ্লাস্টনবারি ফেস্টিভ্যাল যেন মাটির কাছাকাছি থাকার এক অন্যরকম গল্প। সত্তর দশকে মাইকেল ইভিসের খামারের জমিতে স্বল্প পরিসরে শুরু হওয়া এই উৎসবটি আজ বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী সংগীত আয়োজন। গ্লাস্টনবারির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর বৈচিত্র্য। এখানে রক, পপ, হিপহপ থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক মিউজিক সবকিছুর এক অদ্ভুত সহাবস্থান দেখা যায়।

এখানকার কাদামাখা মাঠ আর ঝুম বৃষ্টি উৎসবের অংশ হয়ে গেছে। ইংল্যান্ডের অনিশ্চিত আবহাওয়া সত্ত্বেও লাখ লাখ মানুষ তাঁবুর নিচে রাত কাটায়। বৃষ্টিতে ভিজে কাদা মাখিয়েও মানুষ যে উল্লাসে মেতে ওঠে, তা প্রমাণ করে সংগীতের শক্তি কতটা গভীর হতে পারে। এটি কেবল একটি শো নয়, এটি ব্রিটিশ সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, যেখানে ইতিহাসের সঙ্গে বর্তমানের এক মেলবন্ধন ঘটে। গ্লাস্টনবারি আজও তার প্রথাগত মেজাজ ধরে রেখেছে, যেখানে বড় শিল্পীদের পাশাপাশি নতুন প্রতিভাদেরও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কল্পনার মায়াজাল ও ইডিএম বিপ্লব

ইলেকট্রনিক ড্যান্স মিউজিক বা ইডিএমের দুনিয়ায় বেলজিয়ামের টুমরোল্যান্ড হলো এক পরম তীর্থস্থান। যারা ফ্যান্টাসি বা কল্পনার জগৎ ভালোবাসেন, তাদের জন্য এই ফেস্টিভ্যাল এক স্বপ্নপুরী। টুমরোল্যান্ডের স্টেজ ডিজাইনগুলো দেখলে মনে হয় রূপকথার কোনো রাজ্য থেকে উঠে এসেছে। বিশাল সব ড্রাগন, অদ্ভুত গাছপালা, জলপ্রপাত আর লেজার লাইটের কারসাজি দর্শকদের অন্য এক জগতে নিয়ে যায়।

এখানকার সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো ‘গ্লোবাল অডিয়েন্স’ তৈরি করা। বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের পতাকা এখানে উড়তে দেখা যায়। টুমরোল্যান্ড প্রমাণ করেছে যে, সুরের কোনো ভাষা নেই। যখন হাজার হাজার মানুষ একই বিটের তালে লাফাতে থাকে, তখন তাদের জাতিগত পরিচয় মুছে গিয়ে কেবল মানুষের পরিচয়টিই মুখ্য হয়ে ওঠে। ইলেকট্রনিক মিউজিক দিয়েও যে বিশ্ব জুড়ে মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের সেতুবন্ধ তৈরি করা সম্ভব, টুমরোল্যান্ড তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

গতির উন্মাদনা ও জনসমুদ্র

আমেরিকার মায়ামি শহরের রাতের জীবন আর ইলেকট্রনিক মিউজিকের ঝংকার নিয়ে আয়োজিত হয় আলট্রা মিউজিক ফেস্টিভ্যাল। ডিজে কালচারের উত্থানে এই উৎসবের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বিশ্বের সেরা সব ডিজেদের এখানে পারফর্ম করা এক বিরাট সম্মানের বিষয়। শহরতলির মধ্যে আয়োজিত এই উৎসবটি শহুরে জীবনকে এক নতুন মাত্রা দেয়।

অন্যদিকে লাতিন আমেরিকার উত্তাপ নিয়ে হাজির হয় ব্রাজিলের ‘রক ইন রিও’। এটি আয়তনে এতটাই বিশাল যে, একে আলাদা একটি শহর বা ‘সিটি অব রক’ মনে হয়। ১৯৮৫ সালে শুরু হওয়া এই উৎসবটি লাতিন আমেরিকান স্থানীয় সুরের সঙ্গে গ্লোবাল পপ স্টারদের সংমিশ্রণে এক অনন্য মাত্রা পেয়েছে। জনস্রোতের দিক থেকে রক ইন রিও প্রায়ই বিশ্বরেকর্ড গড়ে থাকে। এখানে যখন কুইন বা কোল্ডপ্লের মতো ব্যান্ড পারফর্ম করে, তখন কয়েক লাখ মানুষের সম্মিলিত কণ্ঠস্বর পুরো রিও ডি জেনিরো শহরকে কাঁপিয়ে দেয়।

শৃঙ্খলা, প্রকৃতি ও স্বাধীনতা

এশিয়ার প্রেক্ষাপটে জাপানের ফুজি রক ফেস্টিভ্যাল এক অনন্য উদাহরণ। প্রকৃতির কোলে পাহাড় আর বনের মাঝে আয়োজিত এই উৎসবটি পরিবেশ সচেতনতার জন্য বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। জাপানিদের চিরাচরিত শৃঙ্খলা আর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এখানেও স্পষ্ট। বনের ভেতর গান শুনেও মানুষ যেভাবে পরিবেশ রক্ষা করে এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে, তা সারা বিশ্বের জন্য একটি শিক্ষা। এখানে সংগীত এবং প্রকৃতির মধ্যে কোনো বিরোধ নেই, বরং আছে এক অদ্ভুত সুরসংগীত।

আবার হাঙ্গেরির সিগেট ফেস্টিভ্যাল নিজেকে পরিচিত করেছে ‘দ্বীপের স্বাধীনতা’ (ওংষধহফ ড়ভ ঋৎববফড়স) হিসেবে। ইউরোপের তরুণদের কাছে এটি কেবল একটি কনসার্ট নয়, বরং মুক্তচিন্তা এবং মানবাধিকারের এক বিরাট প্ল্যাটফর্ম। দানিয়ুব নদীর মাঝখানের একটি দ্বীপে আয়োজিত এই উৎসবে গানের পাশাপাশি নাটক, সিনেমা, সার্কাস এবং সামাজিক ইস্যু নিয়ে আলোচনার অবারিত সুযোগ থাকে। সিগেট আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, শিল্প সবসময়ই প্রতিবাদের এবং মুক্তির ভাষা।

সুরের বাইরে জীবন ও শিল্পের ছোঁয়া

একটি সার্থক ফেস্টিভ্যাল এখন কেবল স্টেজের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করে না। উৎসবের মাঠগুলোতে থাকা আর্ট ইনস্টলেশন বা শিল্পকর্মগুলো দর্শকদের সৃজনশীলতাকে নাড়া দেয়। সেখানে থাকে নানা দেশের বৈচিত্র্যময় খাবারের সমাহার। প্রতিটি ফেস্টিভ্যাল এখন একেকটি ছোটখাটো থিম পার্কে পরিণত হয়েছে। অনেক উৎসব এখন কেবল বিনোদন নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তন বা মানবাধিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বার্তা প্রচারের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে একজন দর্শক যখন সেখান থেকে ফেরেন, তিনি কেবল কিছু স্মৃতি নয়, বরং একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও ফেরেন।

বড় কোনো মিউজিক ফেস্টিভ্যাল যখন কোনো শহরে আয়োজিত হয়, তখন তার অর্থনৈতিক প্রভাব হয় সুদূরপ্রসারী। পর্যটন খাত এক লাফে কয়েক গুণ বেড়ে যায়। স্থানীয় হোটেল, পরিবহন এবং ছোট ছোট ব্যবসাগুলো বিশাল অংকের মুনাফা করে। শহরগুলোর ব্র্যান্ডিংয়ের ক্ষেত্রেও ফেস্টিভ্যালগুলো জাদুর মতো কাজ করে। একটি সফল ফেস্টিভ্যাল কোনো একটি সাধারণ জনপদকে বিশ্ব মানচিত্রে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। টিকিটের বিক্রয়লব্ধ অর্থ, বড় বড় কোম্পানির স্পনসরশিপ এবং মার্চেন্ডাইজিং থেকে আসা আয় দেশের জিডিপিতে দৃশ্যমান ভূমিকা রাখে। উদাহরণস্বরূপ, কোচেলা বা টুমরোল্যান্ড প্রতি বছর তাদের স্থানীয় অর্থনীতিতে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার যোগ করে।

এত চাকচিক্যের আড়ালে কিছু কালো মেঘও রয়েছে। বর্তমানে অনেক বড় ফেস্টিভ্যালের টিকিটের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। ফলে এগুলো কেবল ধনীদের উৎসবে পরিণত হচ্ছে বলে সমালোচনা হচ্ছে। টিকিটের দামের পাশাপাশি আবাসন ও খাবারের উচ্চমূল্য উৎসবের অন্তর্ভুক্তি বা ‘ইনক্লুসিভিটি’র ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

এ ছাড়া বিশাল জনসমাগমের ফলে সৃষ্ট বর্জ্য এবং পরিবেশ দূষণ এক বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্লাস্টিকের ব্যবহার এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো এখন উৎসব আয়োজকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ভিড় সামলাতে গিয়ে অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক সময় পদদলিত হওয়া বা প্রাণহানির মতো দুঃখজনক ঘটনাও ঘটে। পাশাপাশি আধুনিক সময়ে অনেক দর্শকই আসেন কেবল সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি দেওয়ার জন্য; একে বলা হয় ‘কনস্পিকুয়াস কনজাম্পশন’। এতে মিউজিকের আসল আবেদন মøান হয়ে যাচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে বারবার।

দক্ষিণ এশিয়া ও বাংলাদেশের সম্ভাবনা

এশিয়ায় বিশেষ করে ভারত, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় বড় বড় ফেস্টিভ্যালের চল বাড়ছে। ভারতে ‘সানবার্ন’ বা ‘এনএইচ সেভেন উইকেন্ডার’ বিশ্বজুড়ে নাম কুড়িয়েছে। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট কিছুটা ভিন্ন। আমাদের দেশে সংগীতের বিরাট ঐতিহ্য

থাকলেও লজিস্টিক সুবিধা, বড় স্পনসরশিপের অভাব এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে বড় আন্তর্জাতিক ফেস্টিভ্যাল সেভাবে গড়ে ওঠেনি।

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্টের মতো আয়োজনগুলো আশা জাগালেও তা নিয়মিত রাখা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যে উৎসাহ আছে, তা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশও হতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার এক বড় মিউজিক হাব। সঠিক পরিকাঠামো এবং সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় থাকলে আমাদের লোকসংগীতের (লালন, হাসন রাজা, শাহ আব্দুল করিম) ওপর ভিত্তি করেই বিশ্বমানের ‘রুটস মিউজিক ফেস্টিভ্যাল’ আয়োজন করা সম্ভব। কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত বা সিলেটের চা বাগানে এ ধরনের উৎসব আয়োজনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রযুক্তি ও আগামীর গান

ভবিষ্যতে মিউজিক ফেস্টিভ্যালগুলো আরও বেশি প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠবে। ‘অগমেন্টেড রিয়ালিটি’ (অজ) এবং ‘ভার্চুয়াল রিয়ালিটি’ (ঠজ)-এর মাধ্যমে ঘরে বসেই হয়তো বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের উৎসবে সশরীরে থাকার অনুভূতি পাওয়া যাবে। মেটাভার্সে কনসার্ট আয়োজনের ধারণাটি ইতিমধ্যে জনপ্রিয় হতে শুরু করেছে। হাইব্রিড মডেলের মাধ্যমে ফেস্টিভ্যালগুলো আরও বড় পরিসরে মানুষের কাছে পৌঁছাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত