নিভে গেল আরও এক প্রদীপ

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৫২ এএম

দেশীয় চলচ্চিত্রের সোনালি যুগ যাদের হাত ধরে বর্ণিল হয়ে উঠেছিল, তাদের অন্যতম ইলিয়াস জাভেদ। ঢাকাই সিনেমা তথা ঢালিউডের সোনালি দিনের দাপুটে নায়ক ও কালজয়ী নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ (৮২) পাড়ি জমালেন না ফেরার দেশে। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) দীর্ঘদিন মরণব্যাধি ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে গতকাল বুধবার রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন নন্দিত এই অভিনেতা।

গতকাল বিকেলে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ইলিয়াস জাভেদের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় এফডিসি প্রাঙ্গণে। সেখানে সহকর্মী ও চলচ্চিত্র পরিবারের সদস্যদের শ্রদ্ধা জানানোর পর তাকে উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরের বড় মসজিদসংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এই নৃত্যশিল্পীর প্রয়াণে দিনভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক জানিয়েছেন দেশের অনেক তারকা। চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব মাসুদ পারভেজ ওরফে সোহেল রানা এবং নায়ক আলমগীর তাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন চলচ্চিত্রের বর্তমান সময়ের শীর্ষ তারকা শাকিব খানও। শোক জানিয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস)।

জন্ম পাকিস্তানে হলেও ইলিয়াস জাভেদ নিজের জীবন, শিল্প ও ভালোবাসা উৎসর্গ করেছিলেন বাংলাদেশকে। শেষ পর্যন্ত এই দেশের মাটিতেই তার জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটল। একসময় তিনি পুরান ঢাকার সিদ্দিকবাজার এলাকায় বসবাস করতেন। এলাকাবাসীর ভালোবাসা ও সম্মানে সেই মহল্লাটিই তার নামানুসারে পরিচিত হয়ে ওঠে, ‘জাভেদ মহল্লা’। জীবনের সুস্থ সময়গুলোয় সুযোগ পেলেই তিনি ফিরে যেতেন সেই এলাকায়, কাটাতেন প্রিয় মানুষদের সঙ্গে সময়। পরবর্তী সময়ে তিনি স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টরে।

১৯৬৪ সালে উর্দু ছবি ‘নয়ি জিন্দেগি’ দিয়ে নায়ক হিসেবে চলচ্চিত্রে তার অভিষেক ঘটে। তবে ১৯৭০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মুস্তাফিজ পরিচালিত ‘পায়েল’ ছবিটি তাকে এনে দেয় তুমুল জনপ্রিয়তা। নায়করাজ রাজ্জাক ও শাবানার সঙ্গে এই ছবিতে অভিনয় করে দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নেন জাভেদ। এরপর ‘নিশান’ সিনেমার মাধ্যমে নায়ক হিসেবে তার জনপ্রিয়তা পৌঁছে যায় শীর্ষে। বাংলা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি হয়ে ওঠেন এক অপরিহার্য নায়ক।

‘মালকা বানু’, ‘অনেক দিন আগে’, ‘শাহজাদী’, ‘নিশান’, ‘রাজকুমারী চন্দ্রভান’, ‘কাজল রেখা’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’, ‘নরম গরম’, ‘তিন বাহাদুর’, ‘চন্দন দ্বীপের রাজকন্যা’, ‘চোরের রাজা’, ‘জালিম রাজকন্যা’ এমন অসংখ্য আলোচিত ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। তবে নায়ক হওয়ার আগে তার প্রধান পরিচয় ছিল তিনি ছিলেন এ দেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নৃত্যপরিচালক।

তার প্রকৃত নাম রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস। ছোটবেলা থেকেই নাচের প্রতি গভীর আগ্রহ তাকে নিয়ে যায় মুম্বাইয়ে। কিংবদন্তি সাধু মহারাজ ও শম্ভু মহারাজের কাছে তিনি তালিম নেন। বলিউডের প্রখ্যাত কোরিওগ্রাফার সরোজ খানের সঙ্গে একসঙ্গে নাচ শেখার অভিজ্ঞতাও ছিল তার।

দেশে ফিরে অভিনয়ের পাশাপাশি নৃত্য পরিচালনায় নতুন ধারা আনেন জাভেদ। তার সর্বশেষ অভিনীত চলচ্চিত্র ‘মা-বাবা-

সন্তান’। এরপর আর ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো হয়নি তার। বয়স ও অসুস্থতায় ধীরে ধীরে অন্তরালে চলে যান একসময়ের তুমুল জনপ্রিয় এই নায়ক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত