মানবতাবিরোধী অপরাধ

মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আজাদের আত্মসমর্পণ

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪৬ এএম

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ১৩ বছর আগে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেছেন। গতকাল বুধবার সকালে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ সংক্রান্ত আবেদন জমা দেন বলে এক বার্তায় জানান ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম। তবে এদিন শুনানি না হওয়ায় তিনি আবেদন জমা দিয়ে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন। পরে তার আইনজীবী মশিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ট্রাইব্যুনাল তাকে আপিল করতে প্রয়োজনীয় নথি দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছে।

মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক রুকন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাকে মৃত্যুদ-াদেশ দেয় তখনকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। তার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় ফরিদপুরে হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, আটক, অগ্নিসংযোগ এবং লুণ্ঠনের অভিযোগ আনা হয়। আটটি অভিযোগের মধ্যে সাতটি অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে মৃত্যুদ- কার্যকর করার আদেশ দেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান নেতৃত্বে গঠিত ট্রাইব্যুনাল।

মামলার শুরু থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। ফলে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিলের সুযোগ পাননি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এরপর গত বছরের মার্চে মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বাংলাদেশে ফেরার খবর পাওয়া যায়। এর ধারাবাহিকতায় তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে মৃত্যুদ-ের সাজা স্থগিতের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। আত্মসমর্পণ করে সাজার বিরুদ্ধে আপিলের শর্তে গত বছরের অক্টোবরে তার সাজা স্থগিত করে সরকার।

তার আইনজীবী মশিউল আলম গতকাল ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের বলেন, ‘২০১৩ সালে এখান থেকে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মৃত্যুদ-ের রায় হয়েছিল। তারপর দীর্ঘদিন পরে উনি রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত হয়। উনি আত্মসমর্পণ করে আপিল ফাইল করবেন, এমন শর্তে সাজা স্থগিতের প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তিনি বলেন, ‘ট্রাইব্যুনাল উনার আত্মসমর্পণের আবেদন গ্রহণ করে আপিল করতে কাগজপত্র দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আপিল ফাইল করার পরে আপিল বিভাগ যা করার করবে। অর্থাৎ আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত উনি যেভাবে আছেন সেভাবেই (সাজা স্থগিত) থাকবেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত