ছয়টিতে চোখ সুন্নী জোটের

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫৭ এএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্তকরণ প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে এসে চট্টগ্রামের ভোটের মাঠে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর কয়েকটি আসনে প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল এবং ১০ দলীয় জোটের আসন সমঝোতায় তুলনামূলক দুর্বল প্রার্থী মনোনয়নের সুযোগ কাজে লাগাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বৃহত্তর সুন্নী জোট। চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে অন্তত ছয়টিতে তারা ভোটের মাঠে চমক দেখাতে চায়।

নির্বাচন সামনে রেখে গঠিত এ জোটে রয়েছে এম এ মতিনের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (মোমবাতি), আল্লামা সৈয়দ বাহাদুর শাহর নেতৃত্বাধীন ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ (চেয়ার) এবং সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমেদ মাইজভা-ারীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি-বিএসপি (একতারা)। জোট ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের ১৩টিসহ সারা দেশে মোট ৬৪টি আসনে একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে।

ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারম্যান এম ইব্রাহিম আখতারী বলেন, ‘চট্টগ্রামকে আমরা সুন্নীয়তের ঘাঁটি মনে করি। নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় স্থানীয় ও জনপ্রিয় ব্যক্তিদের প্রার্থী করা হয়েছে, তারা ভালো করবেন।’

জোটের প্রার্থীরা নিজ নিজ দলের প্রতীকে লড়বেন। তারা হলেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি): সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভা-ারী (বিএসপি), চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড): মো. শহিদুল ইসলাম (বিএসপি), চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী): মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম (ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ), চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান): মৌলানা ইলিয়াস নূরী (ইসলামী ফ্রন্ট), চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া): অ্যাডভোকেট ইকবাল হাছান (ইসলামী ফ্রন্ট), চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও): সৈয়দ হাসান আজহারী (ইসলামী ফ্রন্ট), চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া): মাওলানা ওয়াহেদ মুরাদ (ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ), চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-হালিশহর): মাওলানা লিয়াকত আলী (ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ), চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা): মাওলানা আবু তাহের (ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ), চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া): সৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু (ইসলামী ফ্রন্ট), চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী): এস এম শাহজাহান (ইসলামী ফ্রন্ট), চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ): মাওলানা সোলায়মান ফারুকী (ইসলামী ফ্রন্ট) এবং চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী): মাওলানা আবদুল মালেক (ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ)।

দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, ১৩ আসনের মধ্যে অন্তত ছয়টিতে তারা ভালো ফলাফলের আশা করছেন। বিশেষ করে সুন্নী মতাদর্শী সাধারণ ভোটারদের পাশে টানা এবং নির্বাচনের বাইরে থাকা আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের ভোট নিজেদের দিকে আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। জোটের তিন দলের নেতাকর্মীরা অভ্যন্তরীণ ভুল বোঝাবুঝি দূর করে একক প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নেমেছেন।

জোট সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-২ আসনে তারা সবচেয়ে আশাবাদী। প্রার্থী সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমেদ মাইজভান্ডারী ব্যক্তিগত প্রভাব, পারিবারিক অবস্থান এবং সুন্নী অধ্যুষিত এলাকার কারণে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত। এ আসনে বিএনপি মনোনীত সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় জামায়াতের মোহাম্মদ নুরুল আমিনকে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম-৭ আসনে অ্যাডভোকেট ইকবাল হাছানকে নিয়েও আশাবাদী জোট। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে সাবেক মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে লড়াই করায় তার স্থানীয় পরিচিতি রয়েছে। এখানে বিএনপির হুম্মাম কাদের চৌধুরী, জামায়াতের এ টি এম রেজাউল করিমসহ অন্যান্য দলের প্রার্থী রয়েছেন।

চট্টগ্রাম-৯ আসনে সাবেক এমপি প্রয়াত কফিল উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে মাওলানা ওয়াহেদ মুরাদকে দিয়ে চমকের আশা। পিতার ইমেজ ও স্থানীয় সহানুভূতি কাজে লাগাতে চান তিনি। এ আসনে বিএনপির আবু সুফিয়ান, জামায়াতের প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের পর নেজামে ইসলামকে আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম-১৩ আসনে এস এম শাহজাহানকে প্রার্থী করা হয়েছে। আনোয়ারা সুন্নী অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। বিএনপির সরওয়ার জামাল নিজামের বিরুদ্ধে দলের অংশের অসন্তোষ রয়েছে। ১০ দলীয় জোট আসনটি খেলাফত মজলিসকে ছেড়ে দেওয়ায় সুন্নী জোট কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে।

চট্টগ্রাম-১৪ আসনে মাওলানা সোলায়মান ফারুকী শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারেন। সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচিত তিনি। এলডিপির অলি আহমদ এ আসন থেকে একাধিকবার জিতলেও এবার তিনি নির্বাচন করছেন না। তার ছেলে ওমর ফারুক এলডিপির প্রার্থী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত