রোজার আগে বেড়েছে ছোলা চিনির দাম, কমেছে পেঁয়াজের

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:২০ এএম

সরবরাহে কোনো ধরনের সংকট না থাকার পরও বেড়েছে ছোলার দাম। রোজায় পণ্যটির বাড়তি চাহিদাকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এর সঙ্গে চিনিও বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। তবে ভরা মৌসুম হওয়ার কারণে কমেছে দেশি পেঁয়াজের দাম। এ ছাড়া সবজি ও ফার্মের মুরগির ডিমের দাম কমলেও বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম।

কারওয়ান বাজার, রামপুরা, বাড্ডা, সেগুনবাগিচাসহ কয়েকটি খুচরা ও পাইকারি বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সপ্তাহখানেক ধরেই পাইকারি বাজারে ছোলার দাম বাড়তে শুরু করেছে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ বলছে, সপ্তাহখানেক আগেও খুচরা বাজারে ছোলা বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে ৯৫ টাকার মধ্যে, এটি এক মাস আগেও ছিল ৮০ থেকে ১১০ টাকার মধ্যে, যা খানিকটা কমে আবার বাড়তে শুরু করেছে। তবে এই পণ্যটির দাম খুচরা বাজারে বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ান বাজারের মতো বড় বাজারগুলোয় পণ্যটি ৯৫ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও ঢাকার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোয় পণ্যটি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে।

বিক্রেতারা জানান, আসন্ন রমজান উপলক্ষে পাইকারি বিক্রেতারা ছোলার দাম বাড়িয়েছেন। যার প্রভাব পড়েছে খুচরায়। বাড্ডার মুদি দোকানি হারুনুর রশিদ বলেন, ‘ছোলার সরবরাহে ঘাটতি নেই। কিন্তু পাইকারি বাজারে দাম বেশি। ফলে খুচরাতেও দাম বেড়েছে।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, সারা বছর ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ টন ছোলার চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে শুধু রোজাতেই চাহিদা প্রায় ১ লাখ টন। সারা বছর ছোলার দাম স্বাভাবিক থাকলেও এই বাড়তি চাহিদাকে কেন্দ্র করে রোজার আগে দাম বাড়িয়ে দেন ব্যবসায়ীরা। অথচ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য বলছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এক লাখ টন ছোলা বেশি আমদানি হয়েছে। শুধু ছোলা নয়, ব্যবসায়ীরা এবার আসন্ন রোজা উপলক্ষে যে পরিমাণ মসুর ডাল আমদানি করেছেন, তা গত বছরের তুলনায় বেশি।

একই অবস্থা চিনির ক্ষেত্রেও। জানা গেছে, রোজায় তিন লাখ টন চিনির চাহিদা রয়েছে। এ উপলক্ষে ব্যবসায়ীরা বাড়তি প্রস্তুতিও নেন। এবারও গত বছরের চেয়ে চিনির সরবরাহ ব্যাপক। তারপরও বাজারে পণ্যটির দাম বেড়ে যাচ্ছে। যদিও আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দামে স্থিতিশীলতা রয়েছে।

জানা গেছে, এক মাস আগেও প্যাকেটজাত চিনির দাম ছিল ১০০ থেকে ১০৫ টাকা। এখন অবশ্য সবগুলো সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্যাকেটজাত চিনির দামই ১০৫ টাকা করা হয়েছে। আর খোলা চিনি যেখানে প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হতো, সেখানে এখন সব দোকানেই ১১০ টাকার নিচে কোনো চিনি নেই।

খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, আসন্ন রমজান উপলক্ষে চিনির দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন পাইকারি বিক্রেতারা। বাজার বিশ্লেষকরা জানান, রোজায় যেসব পণ্যের বাড়তি চাহিদা থাকে, সেগুলোর দাম বাড়ানো ব্যবসায়ীদের এক ধরনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

তবে মৌসুমের কারণে স্বস্তি এসেছে পেঁয়াজের দামে। ধারাবাহিকভাবেই পণ্যটির দাম কমছে। এখন প্রতি কেজি নতুন দেশি পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে। তবে আমদানি হয়ে আসা কিছু পেঁয়াজ এখনো ৭০ টাকা বা তারও বেশি দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এদিকে কয়েক মাস ধরে স্থিতিশীল থাকার পর সপ্তাহখানেক আগে ব্রয়লার মুরগির দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছিল। সেই বর্ধিত দামেই অর্থাৎ প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮৫ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। তবে ফার্মের ডিমের দাম বাড়েনি। প্রতি ডজন বাদামি রঙের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ এবং সাদা ডিম ১০০ থেকে ১০৫ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

এ ছাড়া শীতের সবজির দামও আবার কমতে শুরু করেছে। দুই সপ্তাহ আগে বেড়ে যাওয়া সবজির দাম আবার কমছে। এর মধ্যে ফুলকপির দাম ৫০ টাকা থেকে কমে এখন ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় নেমেছে। বাঁধাকপি প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়। নতুন আলুর দাম মান ও বাজারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়। শিম ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। বেগুন মানভেদে প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৭০ টাকায়, টমেটোর দাম কমে ৫০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত