ইরানের সাম্প্রতিক সহিংস বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করেছে ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার। গত বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল জানিয়েছে, বিক্ষোভে নিহত হয়েছে ৩ হাজার ১১৭ জন। বার্তা সংস্থা এপি জানায়, নিহত এই ৩ হাজার ১১৭ জনের মধ্যে ২ হাজার ৪২৭ জনকে ‘শহীদ’ এবং ৬৯০ জনকে ‘সন্ত্রাসী-দাঙ্গাকারী’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই শহীদদের মধ্যে বেসামরিক আন্দোলনকারী এবং নিরাপত্তাকর্মী উভয়েই আছেন। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী আকবর পৌরজামশিদিয়ান বলেন, নিহতদের মধ্যে যারা বিক্ষোভে সন্ত্রাস ও দাঙ্গা করেছে, সরকারি ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, তাদের ‘সন্ত্রাসী-দাঙ্গাবাজ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আলী আকবর আরও বলেন, শহীদদের তালিকা সন্ত্রাসী-দাঙ্গাবাজদের তালিকা থেকে অনেক বড়। এই তালিকায় সাধারণ বেসামরিক বিক্ষোভকারী যেমন আছেন, তেমনি নিরাপত্তা বাহিনীর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মীও রয়েছেন। নিহতদের এ দুই তালিকা প্রমাণ করে যে সরকার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সহনশীলতা ও ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইরানের মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, ইরানে বিক্ষোভের শুরু থেকে এ পর্যন্ত নিহত হয়েছে ৪ হাজার ৫৬০ জন। গত বেশ কয়েক বছর ধরে ইরানে বিক্ষোভ এবং অস্থিরতা ইস্যুতে সঠিক তথ্য দেওয়া এই সংস্থাটি তাদের ওয়েবসাইটে বলেছে, ইরানের অভ্যন্তরে নিজেদের কর্মীদের নেটওয়ার্কের বরাতে নিহতের এই সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে তারা।
অন্যদিকে বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইরানের বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ১৫ হাজারের বেশি। গত ১৮ জানুয়ারি ইরানের এক সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, বিক্ষোভে অন্তত পাঁচ হাজার জন নিহত হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো ইরান বিক্ষোভে নিহতদের এসব সংখ্যা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। জীবনযাত্রার ব্যয় ও অসহনীয় মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে বিক্ষোভ শুরু হয় ইরানে। এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে দেশটির ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর-গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ এবং বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে।
