একাধিক প্রতিভার অধিকারী আবুল হায়াত। একুশে পদকপ্রাপ্ত এই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব একাধারে যেমন মঞ্চ, টিভি ও সিনেমায় অভিনয় করেন, তেমনি নাট্যকার ও নির্দেশনার সঙ্গেও জড়িত দীর্ঘদিন ধরে। পাশাপাশি লেখক হিসেবেও সমাদৃত তিনি। বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লেখা ছাড়াও প্রতি বইমেলাতেই এক বা একাধিক বই প্রকাশ পায় তার। লেখেন তিনি। এবারের বইমেলাতেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। বরেণ্য এই নাট্যজন জানালেন, ২০২৬ সালের বইমেলাতে তার তিনটি বই প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এগুলো হলো ‘এলোমেলো ভাবনায় আশিতে আসিলাম’, ‘ঘোর’ এবং প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন ও তার যৌথ বই ‘যুগলবন্দি’।
তবে এখনই এসব গ্রন্থগুলোর বিস্তারিত তথ্য দিতে পারছেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি। এই বয়সেও লেখালেখি নিয়ে এই অভিনেতা-পরিচালক বলেন, বয়স কোনো বিষয় না, বরং লিখতে বসলেই মনের মধ্যে সৃষ্টি সুখের উল্লাস খুঁজে পাই। বিশেষত আনন্দের সঙ্গে লেখালেখি করি। বলা যায়, আনন্দের জন্যই লিখি। লিখতে ভালো লাগে। তবে ছোটবেলা থেকে গল্প-উপন্যাসের বই পড়ার নেশা ছিল, যা এখনো আছে। তবে লেখালেখির শুরুর দিকে বেশ মুশকিলে পড়তে হয় আমাকে। তখন আমি বুয়েটে পড়ি। শেরেবাংলা হলের জেনারেল সেক্রেটারি ছিলাম। একটি ম্যাগাজিন প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হলো, কিন্তু কেউ লেখা দিচ্ছিল না। আমাকে গল্প দিতে বলা হলো। মুশকিলে পড়লাম, কারণ আগে কখনো লিখিনি। আবুল হায়াত যোগ করেন, ‘এরপর একটি প্রেমের গল্প লিখলাম। পরে বলা হলো লেখা কম পড়েছে, আরও একটি লেখা দিতে হবে। তখন একটি ভ্রমণ কাহিনি দিলাম। এভাবে দুটো লেখা পাঠকের কাছে পৌঁছায়।’
১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী তাদের হলে আগুন দিলে অনেক কিছুর সঙ্গে সেই ম্যাগাজিনও পুড়ে যায় বলে জানান আবুল হায়াত। লেখালেখির ক্ষেত্রে দৈনিক পত্রিকা ও পাক্ষিক ম্যাগাজিন তাকে বেশ সহযোগিতা করেছে। তিনি বলেন, ‘‘জনপ্রিয় ম্যাগাজিন তারকালোকের সম্পাদক আরেফিন বাদলের অনুরোধে ‘জীবন খাতার ফুটনোট’ লিখতে শুরু করি, যা পাঠকদের কাছে বেশ সাড়া ফেলেছিল। এরপর অরুণ চৌধুরীর অনুরোধে বিচিত্রায় লেখা শুরু করি। আরও অনেক পরে প্রথম আলো পত্রিকায় ‘এসো নীপবনে’ নামে অনেক বছর কলাম লিখেছি।”
আবুল হায়াতের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাসের নাম ‘তৃষ্ণার শাস্তি’ এবং দ্বিতীয়টি গল্পের বই ‘অচেনা তারা’। স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, ‘‘স্বপন কুমারের গোয়েন্দা বই দিয়ে পড়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে, যা ছয় আনা দিয়ে কিনেছিলাম। এরপর শরৎচন্দ্রের বই পড়া শুরু করি। মেট্রিক পর্যন্ত শরৎচন্দ্রের বই খুব টানত। পরে বনফুল, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, বিভূতিভূষণ ও তারাশঙ্কর আমাকে খুব পেয়ে বসে। বিভূতিভূষণের ‘পথের পাঁচালী’ খুব ভালো লেগেছিল। তার ‘আম আঁটির ভেঁপু’ পড়ে কেঁদেছিলাম। দুর্গার মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারিনি।”
লেখালেখির পাশাপাশি এখনো অভিনয় করে যাচ্ছেন আবুল হায়াত। সম্প্রতি ‘লাইফ ইজ বিউটিফুল’ নামের নতুন একটি টিভি সিরিয়ালের শুটিং শেষ করেছেন তিনি। এছাড়া ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকির ‘আতকা’ নামের একটি ওয়েব সিরিজেও কাজ করছেন।
