সুষ্ঠু নির্বাচনে জামায়াত ক্ষমতায় আসবে না : শ্রিংলা

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৫৮ এএম

বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার ও বর্তমানে দেশটির রাজ্যসভার সদস্য হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু হলে জামায়াত ক্ষমতায় আসতে পারবে না। ভারত থেকে প্রকাশিত দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

শ্রিংলা বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কখনো জিততে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না। অতীতে তারা কখনোই পাঁচ থেকে সাত শতাংশের বেশি ভোট পায়নি। তাদের সে রকম জনসমর্থন নেই।

কেউ জামায়াতকে এগিয়ে নিয়ে আসছে, এমন মন্তব্য করে সাবেক ভারতীয় এই কূটনীতিক বলেন, তারপরও নির্বাচনে অনিয়ম হলেই তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে। নয়তো আসা অসম্ভব।

তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন চায়, যেখানে সব দল অংশগ্রহণ করতে পারবে। তবে তেমন পরিস্থিতি এখনো দেখা যায়নি। নির্বাচন হবে কি না, সেটিও 

জানি না, এমনটা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে উদ্বেগ রয়েছে। আর নির্বাচন হলেও কী পরিস্থিতিতে হবে, সেটিও দেখতে হবে। অনেক অনিশ্চয়তা রয়েছে, প্রশ্ন রয়েছে।

ভারত প্রগতিশীল বাংলাদেশকে সমর্থন দেবে : ভারত একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করে যাবে। ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে গতকাল রবিবার ঢাকায় হোটেল রেডিসনে এক সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার এ কথা বলেন।

বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

প্রণয় ভার্মা বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে যা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় যৌথ ত্যাগের মাধ্যমে অমোচনীয় উপায়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পারস্পরিক স্বার্থ, পারস্পরিক সুবিধা এবং পারস্পরিক সংবেদনশীলতার দ্বারা লালিত এই সম্পর্ক বর্তমানে একটি টেকসই অংশীদারত্বে পরিণত হয়েছে। দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশ একে অপরের টেকসই প্রবৃদ্ধির অনুঘটক এবং শক্তিশালী আঞ্চলিক সংহতির ভিত্তি হিসেবে কাজ করার জন্য উপযুক্ত অবস্থানে রয়েছে।

দুই দেশের মধ্যে সংযোগ এবং অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা সম্প্রসারণের ওপর জোর দিয়ে হাইকমিশনার বলেন, ভারতের একটি শোধনাগার থেকে বাংলাদেশে উচ্চগতির ডিজেল বহনকারী একটি আন্তঃসীমান্ত পাইপলাইন, ভারত ও নেপাল থেকে ভারতীয় গ্রিডের মাধ্যমে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ নিয়ে আসা ও আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন আঞ্চলিক জ¦ালানি-সংযোগ এবং একীকরণের ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর বাইরে দুই দেশের সরবরাহ-ব্যবস্থা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং আন্তঃনির্ভরতা উভয় দেশের মানুষ এবং ব্যবসার জন্য বাস্তব সুবিধা প্রদান করছে।

হাইকমিশনার দুই কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের কাজের মাধ্যমে দুই দেশের সাংস্কৃতিক বন্ধন দৃঢ় হওয়ার বিষয়টিও স্মরণ করেন।

রাজনীতিক, দেশ-বিদেশের কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, শিল্পী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত