রংপুরে জিএম কাদের

যারা ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে বলেছে তারা নাৎসিবাদের দোসর

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:০৫ এএম

জাতীয় পার্টির প্রার্থী জিএম কাদের বলেছেন, দেশে একটি ভোট হচ্ছে। যেখানে জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে পারবে কিংবা ‘না’ ভোট দিতে পারবেন। এখন সরকারের কথামতো ভোট না দিলে তাদের লাথি মারা হবে। গণভোটে যারা ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন না তাদের বলা হচ্ছে স্বৈরাচারের দোসর। কিন্তু আমি বলব, গণভোটে যারা ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে বলেছে তারা নাৎসিবাদের দোসর।’

গতকাল শনিবার বিকেলে রংপুর নগরীর সেন্ট্রাল রোডের দলীয় কার্যালয় থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু উপলক্ষে সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

জিএম কাদের বলেন, এই সরকার দেশের সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়ে ক্ষমতায় বসেছে। এখন নির্বাচনের পর সরকার সংসদের মাধ্যমে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে। পরে প্রয়োজন মতো তারা গণভোটে যাবে। তখন জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে সংস্কার পাস হবে। কিন্তু এখন আগে থেকে কেন ‘হ্যাঁ’ এর কথা বলা হচ্ছে। সরকার মানুষকে গণভোট নিয়ে ঠিকমতো বোঝাচ্ছে না। গণভোট যেহেতু সংবিধান সম্মত না, তাই গণভোট বেআইনি ও অবৈধ। যে সরকারি কর্মকর্তাদের এ কাজে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সেটি অবৈধ ও বেআইনি। গণভোটে যে টাকা খরচ করা হচ্ছে তাও অবৈধ-বেআইনি।

তিনি বলেন, গণভোট না এর পক্ষে থাকলে তাদের বলা হচ্ছে স্বৈরাচারের দোসর। আর গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে দেশ বেহেশত হয়ে যাবে। এসব ধাপ্পাবাজির কারণে গণভোটে সবাই ‘না’ ভোট দেবে। সরকার যেভাবে গণভোটে ইনভেস্ট করছে, প্রভাব বিস্তার করছে, জোর করে দখল করার চেষ্টা করছে, হুমকি দিচ্ছে, সরকারি টাকা ব্যবহার করছে, সেই ভোটের ফলাফল আমরা মেনে নিতে পারব না।

জাপা চেয়ারম্যান বলেন, আওয়ামী লীগ দল হিসেবে এখনো নিষিদ্ধ নয়। আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে দেওয়া হচ্ছে না ঠিক আছে, কিন্তু তাদের সমর্থকদের ভোট দিতে দেবেন না, নাগরিকত্বের অধিকার দেবেন না, এটি কখনো কোনো দেশে হয়নি। তারা নির্বাচনে আসতে চাইলে তাদের চাপ দেওয়া হচ্ছে।

কাদের বলেন, ‘বলা হচ্ছে আওয়ামী লীগ আমাদের ভোট দিলে ঠিক আছে, কিন্তু জাতীয় পার্টিকে দেওয়া যাবে না। তাহলে জাতীয় পার্টির কী অপরাধ। জামায়াত, বিএনপি, এনসিপি সবাই আওয়ামী লীগের ভোট চাইছে। তাদের কোনো অপরাধ নেই। কিন্তু জাতীয় পার্টি চাইলে দোসর হয়ে যাচ্ছে, এটি বৈষম্য। ’

তিনি বলেন, অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান বললেন তাদের নিয়োগকর্তা ছাত্র-সমন্বয়করা। আর সরকার ছাত্র সমন্বয়কদের দল এনসিপির অভিভাবক। পরবর্তীতে জামায়াত বলল ছাত্র-সমন্বয়করা তাদের। এ বক্তব্যের পর কেউ জামায়াতের এই কথার বিরোধিতা করল না, মেনে নিল। তাহলে এখন জামায়াত-এনসিপি ও অন্তর্বর্তী সময়ে সরকার মিলে দেশ চালাচ্ছে। তাদের অধীনে নির্বাচন হচ্ছে। বলা যায় অটোমেটিক নির্বাচন ব্যবস্থার কোনো ধরনের নিরপেক্ষতা থাকছে না। সরকার ও তাদের অভিভাবকদের কাছে নিরপেক্ষতা আশা করা যায় না। আমাদের বাধা দেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের দোসর বলে। তবে আমরা সেই বাধাকে উপেক্ষা করে রাজনীতি করছি। প্রয়োজনে রক্ত দেব, তারপরেও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম ইয়াসির আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক, জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আজমল হোসেন লেবু, কেন্দ্রীয় নেতা হাসানুজ্জামান নাজিম, মহানগর জাতীয় পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন, জাহিদুল ইসলামসহ অন্যরা। এরপর জিএম কাদের নগরীর সেন্ট্রাল রোড, পায়রা চত্বর, জাহাজ কোম্পানি মোড়, প্রেস ক্লাব, ওয়ালটন মোড়, গ্রান্ডহোটেল মোড় এলাকায় গণসংযোগ করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত