নাট্যদল আরশিনগরের চতুর্থ প্রযোজনা ‘সিদ্ধার্থ’। এরই মধ্যে নাটকটি দর্শক মহলে বেশ সাড়া ফেলেছে বলে জানিয়েছেন এর নির্দেশক রেজা আরিফ। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার পরীক্ষণ থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ হয় ‘সিদ্ধার্থ’। দর্শক সাড়ার কারণে আজ রবিবার এবং আগামীকাল সোমবার বিকেল ৪টা ও সন্ধ্যা ৭টায়ও প্রদর্শনী রয়েছে। নির্দেশক রেজা আরিফ বলেন, ‘দর্শকদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই। রবিবারের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে শুক্রবারেই। আর গতকাল শনিবারের টিকিট ফুরিয়েছিল প্রায় পাঁচদিন আগে।
এর আগে তিন সিজনে মঞ্চে এসেছে ‘সিদ্ধার্থ’; প্রতিবারই চারটি থেকে পাঁচটি শো হয়েছে এই নাটকের। নোবেলজয়ী সাহিত্যিক হেরমান হেসের লেখা উপন্যাসটির অনুবাদ করেছেন জাফর আলম। নাট্যরূপ ও নির্দেশনা দিয়েছেন রেজা আরিফ। নাটকে দেখানো হয়েছে, ব্রাহ্মণ কুমার সিদ্ধার্থ পিতার অমতে ঘর ছাড়ে এবং সন্ন্যাস গ্রহণ করে। দীর্ঘ তিন বছর সন্ন্যাসব্রতের কঠোর সাধনা, আত্ম-নিগ্রহ, উপবাস, দৈহিক নির্যাতনের পর সন্ন্যাস ত্যাগ করেন তিনি।
এরপর সৌভাগ্য হয় বুদ্ধের সাক্ষাৎ লাভ ও উপদেশ শোনার আশ্চর্য অভিজ্ঞতার। কিন্তু বুদ্ধের শিষ্যত্ব গ্রহণ না করে পথে বেরিয়ে পড়ে সিদ্ধার্থ। পরিচয় হয় নতুন এক জীবনের সঙ্গে। সে জীবনের নাম সংসার-সন্তান লাভের খেলা। সিদ্ধার্থ সে জীবন ত্যাগ করে আশ্রয় নেয় নদীর কাছে। নদীর কাছে থাকতে থাকতে সিদ্ধার্থ শেখে নদীর ভাষা। উপলব্ধি করে জীবনের বৃহত্তর মানে। জীবন ও মৃত্যু, পাপ ও পুণ্য, বোধ ও নির্বুদ্ধিতা সবকিছুরই প্রয়োজন আছে জীবনে। এসব অভিজ্ঞতা জীবনকে পূর্ণ করে। এ অভিজ্ঞতার নামই জ্ঞান। যা কাউকে শেখানো যায় না; অর্জন করতে হয়।
