দুর্গা মন্দির নির্মাণের তহবিল আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৩৯ পিএম

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার রাজঘাট চা বাগানে দুর্গা মন্দির নির্মাণের জন্য চা শ্রমিকদের কাছ থেকে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে সংগৃহীত চাঁদার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চা শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

চা শ্রমিকরা জানান, ২০১৮ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে ৩০ টাকা করে চাঁদা দিয়ে তারা মন্দির নির্মাণের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন। এভাবে প্রায় ৭৪ লাখ টাকা তহবিল গঠিত হলেও নির্মাণকাজ শেষে পুরো অর্থের স্বচ্ছ হিসাব পাওয়া যায়নি।

রাজঘাট চা বাগান পঞ্চায়েত উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি অবাঞ্ছিত তাঁতি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মন্দির নির্মাণের অর্থ নিয়ে বড় ধরনের অসংগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আগের পঞ্চায়েত কমিটি দায়িত্ব ছাড়ার আগে কোনো হিসাব হস্তান্তর করেনি। একাধিকবার হিসাব চাওয়া হলেও তারা বিষয়টি এড়িয়ে গেছে।

তিনি আরও জানান, আগের কমিটির সভাপতি পলাশ তাঁতি ও সাধারণ সম্পাদক অনিল তাঁতি  দাবি করেছেন, মন্দির নির্মাণে মোট আয় হয়েছে ৭৩ লাখ ৬০ হাজার ৬০ টাকা এবং ব্যয় হয়েছে ৭৯ লাখ ৫ হাজার ৬৯৪ টাকা। এই হিসাব সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন, উপজেলা প্রশাসন ও শ্রম দপ্তরে অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত বছরের নভেম্বর মাসে মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের দুইজন প্রকৌশলী সরেজমিনে পরিদর্শন করে একটি প্রতিবেদন দেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মন্দির নির্মাণে প্রকৃত ব্যয় হয়েছে ৪০ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ টাকা। বাকি অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য আগের কমিটিকে বারবার অনুরোধ করা হলেও তারা তা করছেন না বলে অভিযোগ বর্তমান কমিটির। 

উপদেষ্টা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক পলাশ ব্যানার্জী বলেন, মন্দির নির্মাণে ব্যয়ের খাতগুলো বাস্তবতার সঙ্গে মিলছে না। চা বাগান কর্তৃপক্ষ বালুর ব্যবস্থা করেছে, প্রতিটি পরিবার থেকে বাঁশ দেওয়া হয়েছে এবং অনেক শ্রমিক বিনা পারিশ্রমিকে শ্রম দিয়েছেন। এরপরও বিপুল অঙ্কের ব্যয় দেখানো হয়েছে, যা প্রশ্নবিদ্ধ।

চা শ্রমিক কল্পনা বাউড়ি বলেন, আমরা কষ্ট করে উপার্জন করা টাকা দিয়ে মন্দির নির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু সেই টাকার হিসাব না পেয়ে আমরা হতাশ। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে অর্থ ফেরত আনা হোক।

অভিযোগ অস্বীকার করে রাজঘাট চা বাগানের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অনিল তাঁতি বলেন, মন্দির নির্মাণে ব্যয় আয়ের তুলনায় বেশি হয়েছে। কিছু মানুষ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ছড়াচ্ছে। জেলা পরিষদের প্রকৌশলীরা আমাদের সঙ্গে আলোচনা না করেই ব্যয়ের হিসাব দিয়েছেন। আমরা কোনো অর্থ আত্মসাৎ করিনি।

এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসলাম উদ্দিন বলেন, রাজঘাট চা বাগানের মন্দির নির্মাণসংক্রান্ত বিষয়টি প্রশাসন মৌখিকভাবে অবগত হয়েছে। শ্রম দপ্তর, চা বাগান কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সমন্বয়ে আলোচনার মাধ্যমে সুষ্ঠু সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে এলাকায় শান্তি ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় থাকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত