টাইপ টু ডায়াবেটিসে শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়। এই সমস্যা এড়াতে হলে ডায়েটই ভরসা।
ডায়াবেটিস দু’ধরনের টাইপ ওয়ান এবং টাইপ টু। টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিসে রোগীদের শরীরে ইনসুলিন তৈরি হয় না অথবা অপর্যাপ্ত তৈরি হয়। তাই তাদের ইনসুলিন নিতে হয়। সে রকমই ওষুধ দিতে হয়। অন্যদিকে, টাইপ টু ডায়াবেটিসে, প্যানক্রিয়াসে পর্যাপ্ত পরিমাণে ইনসুলিন তৈরি হয়। কিন্তু সেই ইনসুলিন সুগারকে বয়ে নিয়ে গিয়ে কোষের ভেতরে পৌঁছে দিতে পারে না। এর জেরেই রক্তেই বেড়ে চলে শর্করার মাত্রা এটাই হলো ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স। এই অবস্থা দূর করতে এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে ডায়েটে কিছু বদল আনা জরুরি।
ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স দূর করে যে খাবার
বিভিন্ন ধরনের শাক : পালংশাক, মেথিশাকের মতো শাকপাতা ডায়েটে রাখুন। শাকের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া সময়ে পাতে অবশ্যই শাক রাখুন।
দানাশস্য : ওটস, ব্রাউন রাইস, মিলেটের তৈরি খাবার ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে সহায়ক। এই ধরনের খাবারে ফাইবার, ম্যাগনেশিয়াম ও পলিফেনলের মতো বাদাম ও বীজ আমন্ড, আখরোট, ফ্ল্যাক্সসিড ও চিয়া সিডসের মতো বাদাম ও বীজও রোজের ডায়েটে রাখুন। এই ধরনের বাদাম ও বীজে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, প্রোটিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও দ্রবণীয় ফাইবার রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের মিনারেল পাওয়া যায়। ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে এবং ইনসুলিন সেনসিটিভি বাড়াতে সাহায্য করে বাদাম ও বীজ।
সামুদ্রিক মাছ : মাছের মধ্যে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়। এই পুষ্টি শরীরে প্রদাহ প্রতিরোধ করে। শরীরে প্রদাহ তৈরি হলে তা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সও তৈরি করে। তাই মাছ খেয়েও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি এড়াতে পারবেন। এ ছাড়া এতে মস্তিষ্ক, হার্ট ও ক্রনিক কিডনির সমস্যাও প্রতিরোধ করতে পারবেন।
বেরিজাতীয় ফল : ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি, আমলকি, জামের মতো বেরিজাতীয় ফলগুলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর হয়। এগুলো অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায় এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করে। তাই অন্যান্য ফল না খেলেও বিভিন্ন ধরনের বেরি পাতে রাখুন।
