পোলট্রি শিল্পে বিদ্যুৎ বিলে ২০ শতাংশ ভর্তুকি দেবে সরকার

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৩৫ এএম

পোলট্রি, মৎস্য ও গবাদিপশুর খামারে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ বিলে ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ খাতের উদ্যোক্তাদের ব্যবহৃত বিদ্যুৎ বিলের ২০ শতাংশ সরকার ভর্তুকি হিসেবে প্রদান করবে বলে অর্থ বিভাগের এক পরিপত্রে এসব তথ্য জানানো হয়। গতকাল মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রান্তিক পর্যায়ের মৎস্য খামার ও হ্যাচারি এবং গবাদিপশু ও পোলট্রি খামারে উৎপাদন ব্যয় কমানোর জন্য খামারি ও হ্যাচারি মালিকদের বিদ্যুৎ বিলে ২০ শতাংশ ‘রিবেট’ সুবিধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার।

এই ভর্তুকি সুবিধার আওতায় রয়েছে পশু ও পোলট্রি খাদ্য প্রস্তুতকারী শিল্প, ফিশ ফিড উৎপাদন, পোলট্রি শিল্প এবং দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ শিল্প (দুধ পাস্তুরিতকরণ, গুঁড়ো দুধ, আইসক্রিম, কনডেন্সড মিল্ক, মিষ্টান্ন, পনির, ঘি, মাখন, চকলেট, দই ইত্যাদি)।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে বলা হয়, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষিপণ্য রপ্তানিতে উৎসাহ প্রদান এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পকে আরও উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ রিবেট-সংক্রান্ত নীতিমালার আওতায় বর্তমানে ১৬টি খাতে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ রিবেট প্রদান করা হচ্ছে। এর মধ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট চারটি খাতে অর্থ বিভাগ ১০০ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদানের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বলছে, সরকারের এ উদ্যোগের ফলে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। শিল্প খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং নিরাপদ ও মানসম্মত প্রাণিজ আমিষ উৎপাদনে দেশ আরও স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে বলা হয়েছে, চারটি খাতের অনুকূলে বরাদ্দ করা অর্থ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ‘কৃষি ভর্তুকি’ খাতের বরাদ্দ থেকে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই ভর্তুকি সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। প্রতি অর্থবছর বিদ্যুৎ বিভাগ তার বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলোর ২০ শতাংশ রিবেট বাবদ দাবিকৃত পাওনা পর্যালোচনা করবে। পর্যালোচনা শেষে বিদ্যমান ১৬টি খাতের মধ্যে সংশ্লিষ্ট চারটি খাতের বিপরীতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে এবং ১২টি খাতের বিপরীতে কৃষি মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠাবে। পরে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এসব প্রস্তাবের রিবেটপ্রাপ্ত খাতের বিষয়ে অর্থ বিভাগে অর্থ ছাড়ের প্রস্তাব পাঠাবে।

বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলোর অনুকূলে প্রতি ছয় মাস পরপর অর্থ ছাড় করবে মন্ত্রণালয়। বছরের দ্বিতীয় ছয় মাসের নিরীক্ষা শেষ হওয়ার পর অর্থ ছাড়যোগ্য এবং রিবেটপ্রাপ্ত খাতগুলোর নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকতে হবে। গ্রাহক নির্বাচনের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট খসড়া নীতিমালা প্রণয়ন করে অর্থ বিভাগের সম্মতি নিতে হবে। প্রতিটি গ্রাহকের খাতসংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ লাইন, আলাদা মিটার থাকতে হবে এবং রিবেট বাবদ প্রদানকৃত বিদ্যুৎ অন্য কোনো খাতে ব্যয় করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে ব্যত্যয় হলে সংশ্লিষ্ট সবাইকেই দায়ী করা হবে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উদ্যোক্তারা বাণিজ্যিক হারে বিদ্যুৎ বিল দিয়ে আসছিল। উৎপাদনমুখী এ খাতের বিদ্যুৎ বিল কৃষি খাতের বিদ্যুৎ বিলে কৃষি খাতের মতো সুবিধা দেওয়ার দবি ছিল দীর্ঘদিনের। কারণ এ খাতটি কৃষির উপখাত হলেও বিদ্যুৎ বিলের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ক্যাটাগরিতে ধরা হতো।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে করে দেশের প্রান্তিক খামারি ও হ্যাচারিগুলো কম খরচে পণ্য উৎপাদন করতে পারবে। একই সঙ্গে খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর খরচ কমায় সামগ্রিকভাবে উৎপাদন খরচ কমে যাবে। এতে করে মাছ, মাংস ও ডিম কম খরচে কিনতে পারবে ভোক্তারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত