ধর্মীয় বিশ্বাস ও আবেগকে ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা নির্বাচনের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও অবাধ পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণœ করছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর গুলশান-২ এ বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দ্বিতীয় নির্বাচনী সফর উপলক্ষে চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে আয়োজিত কর্মসূচিতে নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে ধানের শীষের পক্ষে গণমানুষের ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। বিপুল জনসমাগমের কারণে কর্মসূচিতে কিছুটা দেরি হলেও মানুষের সরব ও উৎসবমুখর উপস্থিতি তারেক রহমানের প্রতি জনগণের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিফলন।’
মাহদী আমিন বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনে ২৮৭টি আসনে বিএনপির প্রার্থীরা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে ৮৫ জন আগে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ১৯ জন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। রাষ্ট্র পরিচালনা ও জনসম্পৃক্ততার এই অভিজ্ঞতা বিএনপিকে একটি ভিন্ন উচ্চতায় রেখেছে।’
বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে ২৩৭ জন ন্যূনতম স্নাতক সম্পন্ন করেছেন উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, ‘নারী ক্ষমতায়নের প্রশ্নেও বিএনপি অগ্রসর ভূমিকা রেখেছে। দলটি ১০ জন নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে। এটি ভবিষ্যতে আরও বাড়ানো হবে। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী হলেও কিছু রাজনৈতিক দল একজন নারী প্রার্থীও দেয়নি, যা হতাশাজনক।’
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট শাসনামলে সবচেয়ে বেশি গুম, খুন, নির্যাতন ও মামলার শিকার হয়েছে বিএনপি। গুমের শিকার হওয়া তিনজন সালাহউদ্দিন আহমদ, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন ও হুম্মাম কাদের চৌধুরী বর্তমানে বিএনপির প্রার্থী। এছাড়া গুম হওয়া পরিবারের সদস্য হিসেবেও দুজন প্রার্থী রয়েছেন।’
মাহদী আমিন অভিযোগ করেন, ‘একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও তাদের নেতাকর্মীরা ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করে ভোট চাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে ‘নিজের ইমান রক্ষার জন্য ওই প্রতীকে ভোট দিতে হবে’, ‘‘জান ও মাল দিয়ে সেই প্রতীককে জয়ী করানো ইমানি দায়িত্ব’। ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে ভোট চাওয়ার এই অপপ্রয়াস অনাকাঙ্খিত ও উদ্বেগজনক। ধর্মীয় আবেগ ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৭৭(১)(ঘ) অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি ‘অসৎ প্রভাব বিস্তার’ হিসেবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ বিষয়ে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।’’
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ‘নির্দিষ্ট দলের কর্মী-সমর্থকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারী ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, মোবাইল নম্বর ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছেন। নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। সংগৃহীত এ তথ্যগুলো ব্যবহার করে ভুয়া ভোট, মৃত ব্যক্তির নামে ভোট বা আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে ভোট প্রভাবিত করার আশঙ্কা রয়েছে। এনআইডি তথ্যের অপব্যবহার বন্ধে নির্বাচন কমিশনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’ তিনি জানান, ‘প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ভলান্টিয়ার ক্যাটাগরির ১৩ থেকে ১৫ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে তাদের বড় অংশ সাধারণত স্থানীয় বাসিন্দা। আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের কাছে তাদের নিজ থানার বাইরে নির্বাচনী দায়িত্ব প্রদানের দাবি জানাই।’
এক প্রশ্নের জবাবে মাহাদী আমিন বলেন, ‘বিএনপি বিশ্বাস করে যে, দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়টা সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। আমরা বিশ্বাস রাখতে চাই, গণতান্ত্রিক বিশ্ব সেই সন্মানবোধটাকে ধরে রেখেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক এবং অভ্যন্তরীণ যে বিষয়গুলো, যে নির্বাচনী যে প্রক্রিয়া রয়েছে, গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা রয়েছে, সেটাকে সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে, সেটি আমাদের বিশ্বাস।’
