তীব্র শীত ও তুষারঝড়ে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র, এ পর্যন্ত ৩০ জনের মৃত্যু 

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫১ এএম

তীব্র শীতপ্রবাহ ও একের পর এক তুষারঝড় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। টেক্সাস থেকে শুরু করে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় প্রচণ্ড ঠান্ডা, ভারী তুষারপাত ও বরফাচ্ছন্ন আবহাওয়ার মধ্যে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, টেক্সাসের ফ্রিস্কো এলাকায় স্লেজে খেলতে গিয়ে দুর্ঘটনায় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। অস্টিন এলাকায় তীব্র ঠান্ডার মধ্যে একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। লুইজিয়ানায় তিনজন, মিসিসিপিতে দুজন, আরকানসাসে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর, নর্থ ক্যারোলিনায় একজন ব্যক্তি এবং ক্যানসাসে একজন নারী হাইপোথার্মিয়ায় প্রাণ হারিয়েছেন। নিউ ইয়র্ক সিটিতে বাইরে অবস্থানরত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ম্যাসাচুসেটসে তুষার পরিষ্কার করার কাজে ব্যবহৃত গাড়ির ধাক্কায় এক নারীর মৃত্যু হয়। এ ছাড়া টেনেসিতে আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরো সপ্তাহজুড়ে ‘প্রচণ্ড শীত’ বিরাজ করতে পারে। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের (এনডব্লিউএস) পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের পূর্বাঞ্চলের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকায় বিপজ্জনক মাত্রার ঠান্ডা অনুভূত হতে পারে। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত অনেক অঞ্চলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

চরম আবহাওয়ার প্রভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। সোমবার সকালে দেশজুড়ে প্রায় ৮ লাখ মানুষ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় ছিলেন। এর মধ্যে টেনেসিতে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার এবং মিসিসিপিতে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সংযোগ হারান। পরে বিকেলের দিকে বিদ্যুৎবিহীন মানুষের সংখ্যা কমে আনুমানিক ৭ লাখে নেমে আসে। মিসিসিপির কয়েকটি এলাকায় ঝড়ের কারণে অবকাঠামোগত ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে এবং সেখানে উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কাজে অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

চলমান পরিস্থিতির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মিসিসিপি বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, অক্সফোর্ড ক্যাম্পাসে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ক্লাস বন্ধ থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় গাছ ভেঙে পড়া, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া, বরফ জমে যাওয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক পরিস্থিতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যাতায়াত ব্যবস্থাও বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। রবিবার একদিনেই সাড়ে ১০ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। সোমবারও প্রায় ৫ হাজার ফ্লাইট বাতিলের তথ্য পাওয়া গেছে। এনডব্লিউএস জানিয়েছে, নিউ ইংল্যান্ডের কিছু অংশে তুষারপাত অব্যাহত থাকলেও দেশের কেন্দ্রীয় ও পূর্বাঞ্চলের অনেক এলাকায় তুষারপাত ধীরে ধীরে থেমে এসেছে। ম্যাসাচুসেটসে সপ্তাহান্তে সর্বোচ্চ ৫১ সেন্টিমিটার এবং পেনসিলভানিয়ায় ৫৮ সেন্টিমিটার পর্যন্ত তুষারপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

তীব্র শীতের কারণে নিউ ইয়র্ক ও ওয়াশিংটন ডিসির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান সোমবার বন্ধ রাখা হয়। নিউ ইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরি, স্মিথসোনিয়ান মিউজিয়াম, ন্যাশনাল জু এবং সরকারি স্কুলগুলোতে সরাসরি ক্লাস বন্ধ রেখে অনলাইনে পাঠদান চালু রাখা হয়েছে। স্থানীয় আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সপ্তাহজুড়ে অনেক এলাকায় তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, সপ্তাহের শেষের দিকে পূর্বাঞ্চলে আবারও বড় ধরনের তুষারঝড় আঘাত হানতে পারে। যদিও এখনো এর বিস্তারিত পূর্বাভাস পাওয়া যায়নি। কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যের গভর্নর অ্যান্ডি বেসিয়ারও জানিয়েছেন, বিপজ্জনক ঠান্ডা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে এবং বুধবার সকাল থেকে তাপমাত্রা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় নাগরিকদের প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত