ব্রিটেনের বাংলাদেশিদের বেশিরভাগই অতিদরিদ্র

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪৯ এএম

বিশ্বের অন্যতম উন্নত দেশ যুক্তরাজ্যে দারিদ্র্য আরও গভীর হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার জোসেফ রাউনট্রি ফাউন্ডেশন (জেআরএফ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশটিতে ৬৮ লাখ মানুষ ‘অতিদারিদ্র্যের’ মধ্যে বসবাস করছেন। যা গত তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। তাদের মধ্যে বাংলাদেশি ও পাকিস্তানিদের মধ্যে এই হার সবচেয়ে বেশি। রয়টার্স বলছে ‘অতিদারিদ্র্য’ বলতে বোঝায় এমন পরিবারকে, যাদের বাড়িভাড়া দেওয়ার পর হাতে থাকা টাকা ব্রিটেনের জাতীয় গড় আয়ের তুলনায় অনেক কম। যেমন দুই সন্তানসহ একটি পরিবারের সারা বছরের আয় যদি ১৬ হাজার ৪০০ পাউন্ডের নিচে হয়, তবে তারা এই অতিদরিদ্র শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। যার অর্থ ব্রিটেনে বসবাসরত বেশিরভাগ বাংলাদেশি পরিবারের আয় দেশটির গড় আয়ের তুলনায় কম।

জোসেফ রাউনট্রি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে দারিদ্র্য কমানোর উদ্দেশ্যে তারা এ গবেষণা চালিয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে দেশটিতে সামগ্রিক দারিদ্র্যের হার কমেছে। যেখানে ১৯৯৪-৯৫ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ২৪ শতাংশ। সেখানে ২০২৩-২৪ সালে এসে এটি ২১ শতাংশে নেমে এসেছে। কিন্তু অতিদারিদ্র্যের হার ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ১০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এছাড়া, শিশু দারিদ্র্যের হারও বেড়েছে। বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ শিশু দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হচ্ছে। গত তিন বছর টানা দরিদ্র শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। রয়টার্স বলেছে, শিশুদের পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও দারিদ্র্যের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ২০১৭ সালে ব্রিটিশ সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নিম্নআয়ের যেসব পরিবার দুই সন্তানের বেশি সন্তান নেবে তারা সরকারি সামাজিক সুরক্ষা সহায়তা পাবে না। তবে গত এপ্রিলে এই নিয়ম বাতিল করেন বর্তমান অর্থমন্ত্রী রাখায়েল রিভিস। জোসেফ রাউনট্রি ফাউন্ডেশন সরকারের এ উদ্যোগের প্রশংসা করেছে। তবে শুধুমাত্র এটিই শিশু দারিদ্র্য কমাবে না বলে সতর্ক করেছে তারা।

এই প্রতিবেদন নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়ায় এমন পরিস্থিতিকে ‘সমাজের জন্য খারাপ খবর’ বলে মন্তব্য করেছেন দাতব্য সংগঠন বিগ ইস্যু’র প্রতিষ্ঠাতা জন বার্ড। তবে শুধুমাত্র এটিই শিশু দারিদ্র্য কমাবে না বলে সতর্ক করেছে তারা। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে কম আয়ের সম্প্রদায়ের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবনের মানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে সরকার এবং সমাজের দায়িত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে, যাতে এই গোষ্ঠীগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সমর্থন দেওয়া যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত