জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কুমিল্লার বিভিন্ন আসনে সন্ত্রাসী তৎপরতা বাড়ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। জেলায় তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের দাপট বেড়েছে, যাদের কেউ কেউ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের সঙ্গে জড়িত বলে গোয়েন্দা সূত্রের দাবি। ভোটকেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কাও করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ জানায়, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর মাঠপর্যায়ের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা অন্তত ৩৪৭ জন সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের একটি তালিকা তৈরি করেছেন। এই তালিকা ধরে শিগগিরই যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হবে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। তিনি বলেন, নির্বাচন নির্বিঘ্ন ও ভীতিমুক্ত করতে যাচাই-বাছাই করেই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারসহ সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তারে শিগগিরই অভিযান চালানো হবে।
পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে,তালিকাভুক্তদের মধ্যে চৌদ্দগ্রামে সন্ত্রাসীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। কোতোয়ালিতে ৮ জন সন্ত্রাসী ও ১০ জন চাঁদাবাজ, সদর দক্ষিণ থানায় ৮ জন চাঁদাবাজ ও ৭ জন সন্ত্রাসী, চৌদ্দগ্রাম থানায় ৫ জন চাঁদাবাজ ও ২৬ জন সন্ত্রাসী। নাঙ্গলকোটে ৪ জন চাঁদাবাজ ও ৪ জন সন্ত্রাসী। লাকসামে ৯ জন সন্ত্রাসী ও ৪ জন চাঁদাবাজ। মনোহরগঞ্জে আছে ৩০ জন সন্ত্রাসী। ব্রাহ্মণপাড়ায় ৬ জন সন্ত্রাসী ও ৩ জন চাঁদাবাজ। বরুড়ায় ১৮ জন সন্ত্রাসী ও ৮ জন চাঁদাবাজ। চান্দিনায় ১২ জন সন্ত্রাসী ও ১০ জন চাঁদাবাজ। দাউদকান্দিতে ১০ জন সন্ত্রাসী ও ১০ জন চাঁদাবাজ। তিতাসে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ ১১ জন, হোমনায় ১২ জন সন্ত্রাসী ও ৪ জন চাঁদাবাজ। মেঘনায় ৬ জন চাঁদাবাজ ও ৩ জন সন্ত্রাসী। মুরাদনগরে ২২ জন সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ। দেবিদ্বারে ৯ জন সন্ত্রাসী। বাঙ্গরা বাজারে ৯ জন সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ। তবে লালমাই ও বুড়িচংয়ের
সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজের তালিকা দেওয়া হয়নি।
এ ছাড়া কোতোয়ালি, সদর দক্ষিণ, নাঙ্গলকোট, লাকসাম, মনোহরগঞ্জ, বরুড়া, চান্দিনা, দাউদকান্দি, তিতাস, হোমনা, মেঘনা, মুরাদনগর, দেবিদ্বার ও বাঙ্গরা বাজারসহ বিভিন্ন থানায় সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের উপস্থিতি রয়েছে। তবে লালমাই ও বুড়িচং থানার কোনো তালিকা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। জেলার বিভিন্ন থানায় আরও অন্তত ৭৯ জন সন্ত্রাসীর তথ্য রয়েছে পুলিশের কাছে।
র্যাব-১১, সিপিসি-২ কুমিল্লার অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম বলেন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে অভিযানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যে কোনো সময় অভিযান শুরু হতে পারে।
পুলিশ সুপার বলেন, এক জেলা থেকে অন্য জেলায় সন্ত্রাসীদের যাতায়াতও নজরদারিতে রাখা হয়েছে। সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ ঠেকাতে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
