তীব্র লোডশেডিংয়ের ফাঁদে নির্বাচিত সরকার!

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) আসন্ন রমজান, জাতীয় নির্বাচন, সেচ মৌসুম ও গ্রীষ্মে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে অতিরিক্ত ৩৮ হাজার ৪৫১ কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এ ভর্তুকি না পেলে আগামী মাস থেকেই দেশজুড়ে দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং শুরু হতে পারে।

বিদ্যুৎ বিভাগে প্রেরিত এক চিঠিতে পিডিবি জানায়, বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে বিক্রির কারণে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সংকট তীব্র হয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ খাতে সরকার ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা ভর্তুকি দিলেও পিডিবির লোকসানের পরিমাণ এখনও ৩৮ হাজার ৪৫১ কোটির বেশি। এ অবস্থায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে পিডিবির বকেয়া ৩৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

পিডিবির এক সিনিয়র কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অর্থসংকটে সরকারি-বেসরকারি কোন কোম্পানিকেই বিল দেওয়া যাচ্ছে না। শীত শেষে চাহিদা বাড়ছে। এখন অতিরিক্ত ভর্তুকি না দিলে নির্বাচন, সেচ ও রমজানে দীর্ঘ সময় লোডশেডিং হতে পারে। তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বলেন, এ সরকারের মেয়াদ প্রায় শেষ, নতুন করে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব নয়। নতুন সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

পিডিবির সচিব মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। ২০২৩ সাল থেকে গ্যাসের দামও প্রতি ঘনমিটার ৫.০২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫.৫০ টাকা করা হয়েছে। উৎপাদন খরচ বাড়লেও কয়েক বছর ধরে বিদ্যুতের বিক্রিমূল্য বাড়ানো হয়নি। ফলে ভর্তুকির পরও গত চার বছরে পিডিবির লোকসান হয়েছে প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

এদিকে, বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি তদন্তে গঠিত জাতীয় কমিটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, বিগত আওয়ামী সরকার অপ্রয়োজনীয় ৭,৭০০ থেকে ৯,৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনুমতি দিয়েছিল, যার ফলে বছরে অতিরিক্ত ১৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বিল দিতে হচ্ছে।

বর্তমানে পিডিবি প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ১২.৩৫ টাকায় কিনে ৬.৬৩ টাকায় বিক্রি করছে, যার ফলে মাসে হাজার কোটির বেশি ঘাটতি হচ্ছে। দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটের বেশি হলেও বর্তমান চাহিদা মাত্র ১১ থেকে ১২ হাজার মেগাওয়াট। তবে এরপরও রাজধানীর বাইরে লোডশেডিং অব্যাহত আছে। 

পিডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, ৮-৯ মাস ধরে বিদ্যুৎ বিল না পাওয়ায় কোম্পানিগুলো জ্বালানি আমদানি করতে পারছে না, গ্যাসের বিল ও ব্যাংক ঋণ পরিশোধেও সমস্যা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় নির্বাচিত সরকারকে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো অথবা ভর্তুকি বাড়ানো-এই দুটি পথের যেকোনো একটিতে যেতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত