বিমান দুর্ঘটনায় নিহত মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:০৭ এএম

ভারতের মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার এক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার সকালে মহারাষ্ট্রের পুনে জেলার বরামতিতে বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআই। এই দুর্ঘটনায় পাইলট ও পাওয়ারের নিরাপত্তাকর্মীসহ আরও চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, ছোট আকৃতির বিমানটি সকাল ৮টার দিকে মুম্বাই থেকে উড্ডয়ন করে। ৪৫ মিনিট পর বারামতী বিমানবন্দরের কাছে অবতরণের চেষ্টার সময় বিধ্বস্ত হয়। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, স্থানীয় নির্বাচনের আগে চারটি গুরুত্বপূর্ণ জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা ছিল পাওয়ারের। ঘটনস্থলের ছবিতে আগুন, ধোঁয়া ও বিমানের দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ দেখা গেছে।

ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদপ্তর (ডিজিসিএ) এর প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভিএসআর পরিচালিত লারজেট-৪৫ বিমানটি চবরামতি বিমানবন্দরে অবতরণের চেষ্টা করছিল। এ সময় বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিধ্বস্ত হয়। ৬৬ বছর বয়সী এই নেতা ছিলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও এনসিপির প্রতিষ্ঠাতা শরদ পাওয়ারের ভাতিজা এবং লোকসভা এমপি সুপ্রিয়া সুলে-র চাচাতো ভাই। শরদ পাওয়ার ও সুপ্রিয়া সুলে সংসদের বাজেট অধিবেশনে যোগ দিতে দিল্লিতে ছিলেন। তারা শিগগিই পুনের উদ্দেশে রওনা দেবেন। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে অজিত পাওয়ার এনসিপি-তে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন। এর ফলে দলটি দুটি শিবিরে বিভক্ত হয়ে যায় : একটির নেতৃত্বে ছিলেন তিনি এবং অন্যটির নেতৃত্বে তার চাচা শরদ পাওয়ার। পরে অজিত পাওয়ার এনডিএ সরকারে যোগ দেন এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী হন। তবে ইদানিং এনসিপির পুনর্মিলন নিয়ে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল এবং পিম্পরি চিঞ্চওয়াদ মিউনিসিপাল করপোরেশন নির্বাচনে দুপক্ষ একসঙ্গেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে অজিত পাওয়ার একজন পরিচিত ও প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। তিনি বিভিন্ন সরকারের অধীনে ছয় বার উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এবং অন্য রাজনৈতিক নেতারা শোক জানিয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত