শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমকে পিটিয়ে হত্যার একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, রেজাউল করিম মাটিতে পড়ে আছেন এবং কয়েকজন ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মী তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করছেন। পাশ থেকে কয়েকজন তাকে রক্ষা করতে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও হামলাকারীরা আঘাত চালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটি নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে পোস্ট করে শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল লিখেছেন, এটি শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি শহীদ মাওলানা রেজাউল করিম হত্যার ফুটেজ।
তিনি পোস্টে দাবি করেন, এভাবেই বিএনপি সন্ত্রাসীরা তাকে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। একইসঙ্গে ভিডিওতে ঝিনাইগাতী উপজেলার বিএনপির আহ্বায়ক উপস্থিত ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে, ভিডিওটির স্ক্রিনশট শেয়ার করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আস সাদিক লিখেছেন, আরেফিন সোহাগ, ঝিনাইগাতী উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক। এভাবেই শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি শহীদ মাওলানা রেজাউল করিমকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় উভয় পক্ষের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও প্রশাসনকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
সন্ধ্যায় দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ হলে জামায়াতের শ্রীবরদী উপজেলা সেক্রেটারি রেজাউল করিম গুরুতর আহত হন। পরে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান তার সহকর্মীরা। অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
