বিগত দিনে যারা সরকারে থেকে মন্ত্রী ও এমপি ছিলেন, তারা ক্ষমতার চেয়ারে বসে দেশকে ভালোবাসেননি; বরং জনগণের কষ্টে অর্জিত সম্পদ বিদেশে পাচার করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে নীলফামারীর কিশোরীগঞ্জ উপজেলার মিনি স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘চোর দুই ধরনের— একটি অভাবী, অন্যটি স্বভাবী। দেশে স্বভাবী চোরের সংখ্যা বেশি। এই স্বভাবী চোররাই ক্ষমতায় বসে দেশকে একাধিকবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছে।’ তিনি আরও বলেন, স্বভাবী চোরদের কারণে দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির অধিকাংশ মানুষ আজ কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। শিক্ষিত যুব সমাজের বড় একটি অংশ বেকারত্বের বোঝা বহন করছে।
মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, ‘এই পরিস্থিতির পরিবর্তন প্রয়োজন। আমরা ইসলামের নীতি ও আদর্শের আলোকে দেশ গড়তে চাই। আমরা ক্ষমতায় এলে অন্য ধর্মের মানুষরাও দেশে নিরাপদে বসবাস করতে পারবে।’
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত একটি জোট শরিয়াহ অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘নামাজ, রোজা, যাকাত, ঈদের নামাজ—এসবই শরিয়াহর অংশ। যারা এসব মানতে চায় না, তারা কিভাবে দেশ পরিচালনা করবে?’
তিনি আরও বলেন, অনেক মুসলমান পরিবারে নামাজ না পড়লেও ইসলামকে ভালোবাসে। যারা ইসলামের মৌলিক আদর্শ মানে না, তাদের নেতৃত্বে দেশ ও জাতি কখনো শান্তিতে থাকতে পারে না।
জনসভায় তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার সরকার পরিবর্তন দেখেছি, অনেক নেতার শাসন দেখেছি। কিন্তু জনগণ যা চেয়েছে, তা পায়নি। আপনারা দেখেছেন তারা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় বসে দেশকে ধ্বংস করেছে। এবার আমাদের একটি সুযোগ দিন। যদি আপনারা দেখেন আমরা দেশ সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারছি না, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আমরা সরকার ছেড়ে দেব। কারণ আমাদের কাছে দেশ ও জনগণ সবার আগে।’
এ সময় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল সুলতান মাহমুদ, কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াত সম্পাদক মাইমুন ইসলাম মিঠুন, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাছিমুন ইসলামসহ দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
