ডা. মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দীন খান
সহকারী অধ্যাপক, সার্জারি বিভাগ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা
জন্ডিস আমাদের কাছে পরিচিত রোগ। দেশে এমন কোনো পরিবার নেই, যাদের কারও না কারও এই রোগ হয়নি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই রোগ আপনাআপনি সেরে যায়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে জন্ডিস ভালো হয় না যথাযথ চিকিৎসা ছাড়া। জন্ডিস নিজে কোনো রোগ নয়, বরং শরীরের ভেতরের একটি সমস্যার লক্ষণ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ওষুধ, বিশ্রাম ও সঠিক খাদ্যাভ্যাসেই জন্ডিস সেরে যায়। তবে কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে। যেমন পিত্তনালিতে পাথর আটকে গেলে, টিউমার বা ক্যানসারের কারণে পিত্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে, কিংবা গলব্লাডারের জটিলতা দেখা দিলে অস্ত্রোপচার ছাড়া উপায় থাকে না। সময়মতো এসব সমস্যা শনাক্ত না হলে জন্ডিস আরও জটিল রূপ ধারন করতে পারে। তাই দীর্ঘদিন জন্ডিস স্থায়ী হলে বা ব্যথা, জ¦র ও ওজন কমার মতো উপসর্গ দেখা দিলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
জন্ডিস কী
জন্ডিস এমন একটি শারীরিক অবস্থা, যেখানে ত্বক, চোখের সাদা অংশ ও মিউকাস ঝিল্লি হলুদাভ হয়ে ওঠে। রক্তে বিলরুবিন নামক হলুদ রঙের উপাদান স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেলে এই লক্ষণ দেখা দেয়। সাধারণত লিভার, পিত্তথলি বা পিত্তনালির কোনো সমস্যার কারণে জন্ডিস হয়।
ভাইরাসজনিত হেপাটাইটিস, লিভারের প্রদাহ, রক্তকণিকা ভাঙনের সমস্যা কিংবা পিত্তনালিতে বাধা সবই জন্ডিসের কারণে হতে পারে। জন্ডিস নিজে কোনো রোগ নয়, বরং শরীরের ভেতরে চলমান জটিলতার সতর্ক সংকেত। সময়মতো কারণ শনাক্ত ও সঠিক চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জন্ডিস সম্পূর্ণ সেরে যায়।
প্রধান কারণ
জন্ডিস সাধারণত তিন ধরনের কারণে হয়
১. লিভারের সমস্যা (হেপাটাইটিস, সিরোসিস)
২. রক্তের সমস্যা (হিমোলাইসিস)
৩. পিত্তনালির সমস্যা (গলস্টোন, টিউমার, পিত্তনালির সংকোচন)
জন্ডিস হলেই কি সার্জারি প্রয়োজন
অধিকাংশ জন্ডিসে সার্জারির প্রয়োজন হয় না। তবে যদি জন্ডিসের কারণে পিত্তনালিতে যান্ত্রিক বাধা (Obstructive jaundice), তখন অনেক ক্ষেত্রে সার্জারি বা এন্ডোস্কোপিক চিকিৎসা প্রয়োজন হয়। যে অবস্থাগুলোতে সার্জারি বা হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হতে পারে
১. পিত্তনালিতে পাথর (CBD stone)
২. গলব্লাডারের পাথর থেকে জন্ডিস
৩. পিত্তনালির ক্যানসার
৪. প্যানক্রিয়াসের টিউমার
৫. পিত্তনালির জন্মগত সংকোচন
গলস্টোনের কারণে জন্ডিস হলে : প্রথমে ঊজঈচ করে পিত্তনালি থেকে পাথর বের করা হয়। এরপর উপযুক্ত সময়ে ল্যাপারোস্কোপিক কোলেসিস্টেকটমি (গলব্লাডার অপারেশন) করা হয়।
ক্যানসারের কারণে জন্ডিস হলে : যদি ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে থাকে, তাহলে সার্জারির মাধ্যমে আরোগ্য লাভ সম্ভব। দেরিতে ধরা পড়লে প্যালিয়েটিভ সার্জারি বা স্টেন্টিং করে জন্ডিস ও কষ্ট কমানো হয়।
কখন দ্রুত সার্জনের কাছে যাবেন
চোখ ও ত্বক বেশি হলুদ হওয়া, প্রস্রাব গাঢ় হলুদ, পায়খানা ফ্যাকাশে, চুলকানি, ওজন কমে যাওয়া, জ¦রসহ জন্ডিস, পেট ফুলে যাওয়া। মনে রাখবেন, প্রাথমিক অবস্থায় রোগ ধরা পড়লে যেসব ক্ষেত্রে সার্জারি প্রয়োজন, অবশ্যই সার্জারিই আপনাকে রোগ মুক্তি দেবে। কাজেই ভয় নয়, সচেতন হোন। রোগ নিয়ে হেলাফেলা করা যাবে না।
